শতভাগ ‘নিগাদ’ পানির চা-পল্লি

সিলেট সদর উপজেলার বড়জান ও ছড়াগাঙ চা-বাগানের নয়টি পল্লির বাসিন্দাদের জন্য শতভাগ বিশুদ্ধ (‘নিগাদ’) পানি সরবরাহের ব্যবস্থা করা হয়েছে। বিশ্ব পানি দিবস উপলক্ষে আজ এই দুটি চা-বাগানকে দেশের প্রথম নিরাপদ পানির চা-পল্লি ঘোষণা করা হবে।
বেসরকারি সংস্থা ‘ওয়াটারএইড’-এর অর্থায়নে ‘ওয়াশ ফর টি গার্ডেন ওয়ার্কার্স’ প্রকল্পের আওতায় নিরাপদ পানি সরবরাহ ও স্বাস্থ্যসম্মত শৌচাগার (স্যানিটেশন) ব্যবস্থা শতভাগ নিশ্চিত করা হয়েছে। সিলেটের স্থানীয় বেসরকারি সংস্থা আইডিয়া এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করে।tea garden
জানা গেছে, দেশের ১৬৩টি চা-বাগানের মধ্যে ১৫৮টির অবস্থান সিলেট বিভাগের তিন জেলায়। বাগান লাগোয়া পল্লিগুলোতে চা জনগোষ্ঠীর বসবাস। নিরাপদ পানি পানের সুযোগ না থাকায় তারা পাহাড়ের ছড়া (গাঙ), নালা, ঝরনা ও কুয়ার পানি ব্যবহার করছে। ২০১০ সাল থেকে ‘ওয়াশ ফর টি গার্ডেন ওয়ার্কার্স’ প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। এতে ছড়া ও কুয়ার পানি ব্যবহার বন্ধ করতে সিলেটের বড়জান, ছড়াগাঙ, লাক্কাতুরা ও দলদলি চা-বাগানের পল্লিগুলোতে নয়টি গভীর নলকূপ, ২৬টি অগভীর নলকূপ ও ১১টি ছড়ার পানি শোধনাগার স্থাপন করা হয়। ফলে অন্তত ১০ হাজার চা-শ্রমিক পরিবার বিশুদ্ধ পানি ব্যবহারের সুযোগ পেয়েছে।
প্রকল্পের ব্যবস্থাপক পঙ্কজ ঘোষ দস্তিদার জানান, নতুন নলকূপ ও শোধনাগার স্থাপনের ব্যয় পুরোটাই ওয়াটারএইড প্রকল্পের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে। সুফলভোগীদের কমিটি নিজেদের মধ্য থেকে মাসিক দুই টাকা চাঁদা দিয়ে একটি তহবিল গঠন করবে। পরবর্তী সময়ে এগুলোর সংস্কার বা মেরামতকাজের খরচ ওই তহবিল থেকে ব্যয় করা হবে।
গত মঙ্গলবার সরেজমিনে বড়জান ও ছড়াগাঙ চা-পল্লির বাসিন্দাদের সঙ্গে আলাপের সময় এ নিয়ে তাদের মধ্যে বেশ উচ্ছ্বাস লক্ষ করা গেছে। বড়জান চা-বাগানের মাঝলাইন চা-পল্লির বাসিন্দা উষা রানী নায়েক জানান, পানি নিয়ে তাঁদের অনেক কষ্ট ছিল। কুয়ার পানি পরিষ্কার না থাকলেও উপায় না থাকায় তাঁরা পান করতেন। এখন বলতে গেলে ঘরে ঘরে নলকূপ থাকায় পানির চিন্তা তাঁদের দূর হয়েছে।
ছড়াগাঙ চা-বাগান পরিচালিত হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক কৃষ্ণদাস ছত্রী জানান, চা-বাগানের হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আগে শতকরা ৮০ ভাগই আসতেন পানিবাহিত নানা রোগ-ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে। চা-পল্লিতে নিরাপদ পানির ব্যবহার বাড়ায় গত দুই বছরের হিসাবে এ হার এখন ২০ ভাগে নেমে এসেছে।

সুত্রঃ প্রথম আলো, ২২,০৩,২০১৩

Check Also

Villagers of kombonia struggling for drinking water

Nurul Alam is one of the villagers and school teacher of the only primary school. He is the first person who passed S.S.C. among the villagers. He discussed the villager’s suffering for drinking water with me, which he witnessed from his childhood.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *