টেকনাফের একাধিক গ্রামে পাহাড়ি ছড়াই ভরসা

কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলায় চৈত্র-বৈশাখ মাস এলেই গবাদিপশু ও মানুষ একই পাহাড়ি ছড়ায় গোসল এবং পানি পান করে। অধিকাংশ গ্রামে সরকার ও এনজিওগুলোর দেওয়া নলকূপগুলো অকেজো হয়ে পড়ায় শুষ্ক মৌসুমে এলে দেখা দেয় পানিবাহিত রোগের প্রাদুর্ভাব।
উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানায়, সাড়ে তিন লাখ জনসংখ্যা অধ্যুষিত টেকনাফের সাবরাং ও সদর ইউনিয়নে আংশিকভাবে গভীর নলকূপ স্থাপন করে বিশুদ্ধ পানি পাওয়া গেলেও অবশিষ্ট পৌরসভাসহ পাঁচটি ইউনিয়নে খাল, পুকুর ও ছড়ার পানিই ভরসা। chora
হোয়াইক্যং লাতুরিখোলা গ্রামের বাসিন্দা আবদুল চাকমা বলেন, বর্ষায় বৃষ্টির এবং শুষ্ক মৌসুমে পাহাড়ি ছড়ার পানি তাঁরা পান করেন। নলকূপ ও পুকুরগুলো শুকিয়ে গেলে মানুষ ও গবাদিপশু একই স্থানে গোসল করে। এলাকায় গভীর বা অগভীর কোনো নলকূপে পানযোগ্য পানি পাওয়া যায় না।
হ্নীলা লেচুয়াপ্রাং গ্রামের গৃহিণী মজিনা বেগম জানান, দুই কিলোমিটার দূরের বাহাতিরছড়ার এলাকা থেকে কলসি ভরে পানি আনা হয় পান করার জন্য। পরিবারের সদস্যদের গোসল ও রান্নার জন্য ওই ছড়ার পানিই ভরসা।
হোয়াইক্যং ইউপি চেয়ারম্যান নুর আহমদ আনোয়ারী বলেন, এলাকার অধিকাংশ মানুষ পাহাড়ি ছড়ার ওপর নির্ভরশীল। প্রতিবছর শুষ্ক মৌসুমে পানীয়জলের জন্য দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
অন্যদিকে, উপজেলা সদর পৌর এলাকা হলেও এখানকার অধিকাংশ গ্রামের নলকূপের পানি লবণাক্ত। ২০০০ সালে পৌরসভা প্রতিষ্ঠা করা হলেও এক যুগ ধরেও পৌর কর্তৃপক্ষ কোনো ধরনের পানির ব্যবস্থা করতে পারেনি। ফলে পৌর এলাকার মানুষের তিন কিলোমিটার দূরের নাইট্যংপাড়া পাহাড়ি ছড়ার পানিই একমাত্র ভরসা।
পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মোহামঞ্চদ রফিক বলেন, ‘এলাকায় নলকূপ থাকলেও পানি নেই। আবার কোথাও কোথাও পানি থাকলেও তা লবণাক্ত। তাই শুষ্ক মৌসুমে ফেরিওয়ালার কাছ থেকে টাকা দিয়ে পানি কিনি। সে পানিও ফিল্টার করে ব্যবহার করি।’
পৌরসভার মেয়র হাজী ইসলাম বলেন, গত বছর পানি শোধন প্রকল্প হাতে নিয়ে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। কিন্তু সেখানে ফাইলবন্দী হয়ে পড়ে আছে। তাই এলাকার মানুষও পানি নিয়ে কষ্ট পাচ্ছে।
উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী (ভারপ্রাপ্ত) নুর হোসেন বলেন, যেসব এলাকায় নলকূপ স্থাপন করা সম্ভব হচ্ছে না সেখানে পিএসএফ প্রকল্পের আওতায় পানি সংরক্ষণ করার জন্য একটি প্রতিবেদন সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া গেলে কাজ শুরু করা হবে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ আতাউর রহমান বলেন, গরম পড়ার পর উপজেলার কয়েকটি এলাকায় পানিবাহিত রোগের প্রাদুর্ভাব বেড়ে যায়। আক্রান্তদের মধ্যে শিশুদের সংখ্যাই বেশি।

সুত্রঃ প্রথম আলো, ২২,০৩,২০১৩

Check Also

Villagers of kombonia struggling for drinking water

Nurul Alam is one of the villagers and school teacher of the only primary school. He is the first person who passed S.S.C. among the villagers. He discussed the villager’s suffering for drinking water with me, which he witnessed from his childhood.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *