‘পানি নাই তো আমরাও নাই’

‘আমরা পানের ওপর নির্ভর করি। কিন্তু শুকনো মৌসুমে পানপুঞ্জিতে পানি থাকে না। পানি নাই তো আমরাও নাই। অনেক পানগাছ মারা যাচ্ছে। আমরা কিছু করতে পারছি না। কম হলেও তিন মাস ধরে আমরা আয়-উপার্জন ছাড়া আছি। এখনো মেঘ-বৃষ্টির দেখা নাই।’
এ কথাগুলো বলেন মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার আমছড়ি পানপুঞ্জির মন্ত্রী (পুঞ্জিপ্রধান) নুটলি লামিন। তিনি জানান, তাঁর পানপুঞ্জির ৬০ শতাংশ গাছ মারা যাচ্ছে। অন্যান্য বছর জানুয়ারি মাসেই বৃষ্টি হয়েছে। এবার এখনো বৃষ্টি না হওয়ায় পানিসংকট তীব্র হয়ে উঠেছে। এমন পরিস্থিতিতে আজ ২২ মার্চ পালিত হচ্ছে বিশ্ব পানি দিবস। নুটলি লামিনের পানপুঞ্জির মতোই পরিস্থিতি প্রায় সব পানপুঞ্জিতেই বিরাজ করছে। Battle-Life
পানপুঞ্জি সূত্রে জানা গেছে, দেশের আদিবাসী খাসিদের (খাসিয়া) পানপুঞ্জির অধিকাংশই মৌলভীবাজার জেলার পাহাড়ি এলাকায়। জেলার ৭৮টি পানপুঞ্জিকে কেন্দ্র করে খাসি ও গারোরা বনের ভেতর আবাসস্থল গড়ে তুলেছেন। অতীতে শুকনো মৌসুমে পানি কমে গেলেও কুয়া (গভীর গর্ত) ও পাহাড়ি ছড়ায় (খাল) ব্যবহারের উপযোগী পানিপ্রবাহ থাকত। এখন প্রায় প্রতিবছরই বৃষ্টিপাত হচ্ছে অনিয়মিতভাবে। বর্ষা শুরু হচ্ছে দেরিতে। সময়মতো বৃষ্টিপাত না হওয়ায় খাবার ও ব্যবহারের পানিসংকট যেমন তীব্র, তেমনি পান উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আদিবাসী খাসিরা জানিয়েছেন, স্বাভাবিকভাবে জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি মাসে মোটামুটি ভালো বৃষ্টিপাত হয়ে থাকে। এতে পুরোনো পান তোলা শেষ হওয়ার পর পানপুঞ্জির গাছে গাছে নতুন পাতা গজাতে শুরু করে। পাতা গজানোর কারণে এই মৌসুমে (মার্চ মাস থেকে) নতুন পান তোলা শুরু হয়ে যায়। কিন্তু কয়েক বছর ধরে মৌসুমি বৃষ্টিপাত সময়মতো হচ্ছে না। এ মৌসুমেও পানির অভাবে পানগাছ মারা যেতে শুরু করেছে। পানের পাতা শুকিয়ে ঝরে পড়ছে। গাছে নতুন পাতা গজাচ্ছে না। পানের চাষই আদিবাসী খাসিদের আয়ের একমাত্র পথ হওয়ায় বেশির ভাগ পুঞ্জিবাসীই এখন অর্থসংকটে পড়েছেন। প্রতিদিনের যে খরচ, সেটাও জোগাড় করা অনেকের পক্ষে কঠিন হয়ে পড়েছে। এই সময়টিতে তাঁদের অনেকেই ক্ষুদ্রঋণ সংস্থা (এনজিও) ও স্থানীয় সমতল ভূমির মহাজনদের ঋণের জালে জড়িয়ে পড়ছেন।
কুলাউড়া উপজেলার মেঘাটিলা পানপুঞ্জির মন্ত্রী মনিকা খংলা গতকাল জানান, পানিসংকটের কারণে তাঁদের ফসল মার খাচ্ছে। তাই পুঞ্জির মানুষ নিয়মিত খাদ্যতালিকা ছোট করেছেন। সীমিত খাবার খেয়ে দিন যাপন করছেন।
আদিবাসী খাসিদের জীবনমান উন্নয়ন নিয়ে কর্মরত সাপোর্ট টু ইন্ডিজিনাস পিপলস ইন প্লেন ল্যান্ড মৌলভীবাজারের প্রকল্প সমন্বয়কারী জয়ন্ত লরেন্স রাকসাম গতকাল প্রথম আলোকে জানান, সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার উদ্যোগে পানপুঞ্জিগুলোতে ভূগর্ভস্থ জলাধার তৈরি করা যায়। বৃষ্টির মৌসুমে এসব জলাধারে পানি সংগ্রহ করে রাখতে হবে। শুকনো মৌসুমে বা খরা দেখা দিলে এ পানি ব্যবহার করতে পারবেন আদিবাসীরা।

সুত্রঃ প্রথম আলো, ২২,০৩,২০১৩

Check Also

Villagers of kombonia struggling for drinking water

Nurul Alam is one of the villagers and school teacher of the only primary school. He is the first person who passed S.S.C. among the villagers. He discussed the villager’s suffering for drinking water with me, which he witnessed from his childhood.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *