নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন খাতে বরাদ্দ বাড়ানো হোক

দেশের মোট জনসংখ্যার অর্ধেক এখনো আর্সেনিক ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। এছাড়া নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশনের বাইরে রয়েছে প্রতি ১০০ জনের মধ্যে ৮৭ জন। এ বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে তিন হাজার ৬৩০ কোটি টাকা বরাদ্দ দাবি করা হয়েছে আগামী অর্থ বছরের বাজেটে। এ বরাদ্দ থেকে গ্রামীণ এলাকার জন্য ৩৩ দশমিক ৫ শতাংশ এবং শহর এলাকায় ৬৬ দশমিক ৫ শতাংশ বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। image_40421

গতকাল সোমবার জাতীয় সংসদ ভবনের আইপিডি সম্মেলন কক্ষে সর্বদলীয় সংসদীয় গ্রুপ (এপিপিজি) আয়োজিত ‘জাতীয় বাজেট ২০১৩-২০১৪ : নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন বিষয়ক নীতি-পর্যালোচনা’ অনুষ্ঠানে এমন দাবি করেন অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. আবুল বারাকাত। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করে তিনি বলেন, অতীতের তুলনায় বরাদ্দ খানিকটা বাড়ানো হয়েছে। তবে চলতি অর্থ বছরে বরাদ্দ আবার কমেছে।

তিনি পরিসংখ্যান তুলে ধরে বলেন, ২০০৮-২০০৯ অর্থ বছরে প্রস্তাবিত বরাদ্দ ছিল এক হাজার ২৮৯ কোটি টাকা, ২০০৯-২০১০ অর্থ বছরের দুই হাজার ২৭৩ কোটি টাকা, ২০১০-২০১১ অর্থ বছরে তিন হাজার ১৬২ কোটি টাকা, ২০১১-২০১২ অর্থ বছরের তিন হাজার ৬৮৪ কোটি টাকা এবং চলতি অর্থ বছরে (২০১২-২০১৩) বরাদ্দ কমে দুই হাজার ৬৯৬ কোটি টাকা হয়েছে। নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন নিশ্চিত করতে ২০১৩-২০১৪ অর্থ বছরের জন্য বরাদ্দের প্রস্তাব করা হচ্ছে তিন হাজার ৬৩০ কোটি টাকা।

ড. আবুল বারাকাতের প্রস্তাবে সর্বদলীয় সংসদ গ্রুপ সম্মতি দিয়ে বলেছে, গত অর্থ বছরের চেয়ে এক হাজার কোটি টাকা বেশি বরাদ্দ চাওয়ার বিষয়টি প্রয়োজনীয় ও গুরুত্বপূর্ণ। তবে গ্রামীণ জনপদের মানুষের উন্নয়নে এই বরাদ্দ গ্রাম এলাকায় বেশি হওয়া উচিত। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংসদীয় সর্বদলীয় গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান মনোয়ার হোসেন চৌধুরী এমপি। স্বাগত বক্তব্য রাখেন সর্বদলীয় সংসদীয় গ্রুপের সেক্রেটারি জেনারেল শিশির শীল। পানি ও স্যানিটেশন খাতে বিনিয়োগের ন্যায্যতা- প্রেক্ষাপট ও বাস্তবতা তুলে ধরেন ওয়াটার এইডের কান্ট্রি রিপ্রেজেটেটিভ ডা. মো. খায়রুল ইসলাম।

সর্বদলীয় সংসদীয় গ্রুপের পক্ষে সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতিসহ সংসদ সদস্যরা নীতি-পর্যালোচনা অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন। তারা সকলেই বাজেটে বরাদ্দ বাড়ানোর দাবিতে একমত পোষণ করেন। এই বরাদ্দ শহর ও গ্রামে এবং উপকূলীয় ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা বিবেচনায় ব্যয় করার সুপারিশ করা হয়েছে। নতুন করে নেয়া প্রকল্পের আওতায় ৫৭টি জেলার ৩০৮টি শহর ও গ্রামাঞ্চল অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এসব প্রকল্পের জন্য বড় ধরনের বরাদ্দের প্রয়োজন বলে উল্লেখ করা হয়। জনগণের সুস্থ জীবনের জন্য নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশনে বাজেট বরাদ্দে সংসদে ভূমিকা রাখারও সুপারিশ করা হয়।

অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন খাদ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মুহাম্মদ ইমাজ উদ্দিন প্রামাণিক, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মো. আনোয়ারুল হক, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য কর্নেল (অব:) নজরুল ইসলাম, স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য মোহাম্মদ ফজলুল আজিম, রওশন জাহান সাথী, আসমা জেরিন ঝুমু, রুবি রহমান, শহীদুজ্জামান সরকার, জাহানারা বেগম, মনোরঞ্জন শীল গোপাল, সাধন চন্দ্র মজুমদার প্রমুখ।

সূত্রঃ দৈনিক ইত্তেফাক (১৪/০৫/২০১৩)

Check Also

Villagers of kombonia struggling for drinking water

Nurul Alam is one of the villagers and school teacher of the only primary school. He is the first person who passed S.S.C. among the villagers. He discussed the villager’s suffering for drinking water with me, which he witnessed from his childhood.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *