পানি সরবরাহকে জাতিসংঘের মূল এজেন্ডা করার আহ্বান

বিশ্বজুড়ে পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশনকে ২০১৫ সাল পরবর্তী জাতিসংঘের উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার মূল এজেন্ডায় পরিণত করার আহবান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গতকাল সোমবার সকালে থাইল্যান্ডের চিয়াংমাইয়ে আয়োজিত দ্বিতীয় এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় পানি সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশনে ভাষণ দানকালে তিনি এ আহবান জানান।

এদিকে থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ইংলাক সিনাওয়াত্রার সঙ্গে গতকাল এক দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে রোহিঙ্গাদের বাস্তুচ্যুত হওয়া প্রতিরোধে তাদের নাগরিকত্ব প্রদানে মিয়ানমারের নেতৃত্বকে রাজি করাতে থাই সরকারের সহযোগিতা চান শেখ হাসিনা। অপরদিকে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি জুফ জেরেমিকের সঙ্গে বৈঠককালে শেখ হাসিনা বলেছেন, বাংলাদেশের আগামী সাধারণ নির্বাচন সকল রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণে অবাধ ও নিরপেক্ষ হবে।image_42271

চিয়াংমাই আন্তর্জাতিক সম্মেলন ও প্রদর্শনী কেন্দ্রে আয়োজিত পানি সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পানি ও মানবাধিকার এখন আন্ত:সম্পর্কিত এবং অর্থনীতি, পরিবেশ ও সামাজিক স্বার্থের জন্য টেকসই পানিসম্পদ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এ জন্য বিশ্বজুড়ে পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশনকে জাতিসংঘের ২০১৫ সাল-উত্তর উন্নয়নের মূল এজেন্ডায় পরিণত করতে হবে এবং তা হতে হবে বৈষম্যহীন ও সমতার ভিত্তিতে।’

শেখ হাসিনা বলেন, বিশ্বের ৭শ’ কোটি জনসংখ্যার ৬০ শতাংশের বাস এশিয়ায়। কিন্তু ২০৩০ সাল নাগাদ এশিয়া প্রশান্তসাগরীয় অঞ্চলে পানির চাহিদা ও সরবরাহের ব্যবধান দাঁড়াবে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত। প্রধানমন্ত্রী এ চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় কয়েকটি বিষয়ে জরুরি নজর দেয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

প্রথমত, জাতীয় উন্নয়ন পরিকল্পনায় সমন্বিতভাবে কৃষিতে সেচ ব্যবস্থার মানোন্নয়ন, জ্বালানি লক্ষ্যমাত্রা অর্জন ও ক্রমবর্ধমান শিল্পে পানির চাহিদা পূরণ প্রভৃতি বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

দ্বিতীয়ত, ভূগর্ভস্থ পানির আর্সেনিক দূষণ কার্যকরভাবে প্রতিরোধ, সফলভাবে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ ও বর্জ্য পানি পরিশোধনের জন্য প্রযুক্তির উন্নয়ন ও হস্তান্তরে বিভিন্ন দেশকে অবশ্যই মেধাস্বত্ব অধিকারের (আইপিআর) সীমাবদ্ধতা ব্যতিরেকে এগিয়ে আসতে হবে।

তৃতীয়ত, সহযোগিতার মনোভাব নিয়ে ও দেশীয় উদ্যোগের মানোন্নয়ন ঘটিয়ে পানি ব্যবস্থাপনার চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হবে। বিভিন্ন সমপ্রদায়কে সীমিত ভূগর্ভস্থ সম্পদের পুনর্ব্যবহার, পরিশোধন ও এর সুষ্ঠু ব্যবহারে উত্সাহিত করতে হবে।

চতুর্থত, বিভিন্ন নদ-নদীর পানি সংরক্ষণ ও নাব্যতা অক্ষুণ্ন, অন্যান্য আন্তঃদেশীয় নদ-নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত এবং নদী অববাহিকা ও প্রতিবেশ রক্ষায় নানামুখী পদক্ষেপ নিতে হবে।

সবশেষে, তিনি বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, লবণাক্ততা ও সমুদ্রসীমা বৃদ্ধির মত বিভিন্ন সমস্যা মোকাবেলায় একটি সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণের প্রস্তাব দেন। একইসাথে তিনি দুর্যোগ ঝুঁকি মোকাবেলায় সর্বাত্মক প্রস্তুতি, অভিযোজন ও জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি হরাসে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহবান জানান।

প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন যে, দ্বিতীয় এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় পানি সম্মেলন মূল্যবান পানির চাহিদা এবং ভবিষ্যত্ প্রজন্মের প্রয়োজন মেটাতে সহায়ক হবে। তিনি বলেন, ‘আমাদের মাতৃভূমিতে মানবিক ও প্রাকৃতিক জীবন সমুন্নত রাখতে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করার জন্য বাংলাদেশ তার ভূমিকা পালন করে যাবে।’

সূত্রঃ দৈনিক ইত্তেফাক (২১/০৫/২০১৩)

Check Also

জলবায়ু পরিবর্তনঃ যে ৯ টি কারণে ২০১৮ তে আমরা আশাবাদি হতেই পারি!

সাদিয়া লেনা আলফি গেল বছরটি ছিলো জলবায়ুর জন্য বেশ আশঙ্কাজনক। বিষয়টি মূলত ঘটেছে বর্তমান বিশ্বের …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *