দ্য লাস্ট ডে অব দ্য ডাইনোসর

download (4)আমাদের এই পৃথিবী একসময় ডাইনোসরের অধীনে ছিল। তারা যেখানে হাঁটতো আজ আমরা সেখানে হাঁটছি, একই পানি তারা পান করত। নিঃশ্বাস নিত একই বাতাসে। কিন্তু তারা এমন একটি দিনের মোকাবিলা করেছিল যা আজ আমরা কল্পনাও করতে পারব না। পৃথিবীতে প্রাণের ইতিহাস ধ্বংসের ভয়াবহতম কয়েকটি ঘণ্টা। এই গল্প সেই দিনের, যেদিন তাদের পৃথিবী শেষ হয়ে যায়। দ্য লাস্ট ডে অব দ্য ডাইনোসর নিয়ে লিখেছেন ওবায়দুল গনি চন্দন
৬৫ মিলিয়ন বছর আগে এই পৃথিবী অনেক বেশি একটি উত্তপ্ত জায়গা ছিল। পশ্চিম উপকূলের দিকে যেখানে আজকের উত্তর আমেরিকা মহাদেশ, সুউচ্চ পর্বতের সারি ছিল বনে ঘেরা। ডাইনোসরসহ ৩৫০ পাউন্ড ওজন ও ৪০ ফুট দীর্ঘ পাখা বিশিষ্ট ক্যাযাকুয়াটলাস, যা ছিল সে সময়কার পৃথিবীর সবচেয়ে বিশাল উড়ন্ত পাখি। যা মেটাবলিজমকে রক্ষা করতে নিয়মিত তার নির্দিষ্ট আহার গ্রহণ করতে হতো। খাবারের খোঁজে সে পৌঁছে যায় ডাইনোসরের সদ্য ডিম ফুটে বের হওয়া বাচ্চাদের কাছে। কিন্তু অদূরে থাকা ডাইনোসর আঁচ করতে পেরেছিল যে কিছু একটা তো গোলমাল, ক্যাযাকুয়াটলাস তার বাচ্চাদের পেটে ঢালতে এসেছে, সে তাড়িয়ে দেয় ক্যাযাকুয়াটলাসকে। যদিও কয়েকটি বাচ্চা তার পেটে চলে গিয়েছে এর মধ্যে।
বেবি টি-রেক্সের বাচ্চা যখন ডিম ফুটে মাটিতে পড়ে তার উচ্চতা হয় প্রায় ১৭ ফুট ওজন কমপক্ষে সাত টন। কিন্তু এ সময় বাচ্চাগুলো ঠিকভাবে প্রকৃতিকে উপভোগ করতে পারবে না যেমনটি পারেনি টাইরানোসায়ারাসগুলোও, কারণ একটি ঝড় ছিল আসন্ন। ১০০ মিলিয়ন বছর আগে মঙ্গল ও বৃহস্পতি গ্রহের মাঝে একটি গ্রহাণুর বেল্ট বা চাকতি ছিল। মহাশূন্যে দ্রুতগতিতে পরিভ্রমণ করে চলছিল অনেক গ্রহ। হঠাৎ করে একটি গ্রহাণুর সাতে মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটে, যার ফলে দুটি গ্রহাণু ভেঙে হয়ে যায় কয়েক বিলিয়ন টুকরো। কিন্তু ছয় মাইল আয়তনের এই গ্রহাণুর একটি বিশেষ গন্থ্যব্যস্থল ছিল। ১০০ মিলিয়ন বছর ওটা মহাশূন্যে ঘুরল। এর পর তা আঘাত আনল পৃথিবীতে। যেখানে বসবাসরত এই প্রাণীদের একটুও খবর ছিল না যে তাদের ভাগ্যে কী দুর্দিন আসছে। তারা তাদের স্বাভাবিক জীবন চালিয়ে যাচ্ছিল। এখানে খাবারেরও ঘাটতি ছিল, কোনো কোনো সময় এরা একে অন্যেকেও হত্যা করে জীবন ধারণ করত। তেমনি একটি ট্রাইসেরাটপস একটি টি-রেক্সকে মেরে ভোজন করছিল অতি সুখে, তবে হয়তো তার কাছে খেয়ে শেষ করার মতো পর্যাপ্ত সময় নেই। এক মিলিয়ন মাইলের কিছু কম উপরে একটি শেষ প্রতিরক্ষার আশা আছে, চাঁদ যা এর আগেও আমাদের এই পৃথিবী নামের গ্রহটিকে রক্ষা করেছে। এর বুকের এসব গর্ত তার প্রমাণ। চাঁদের বুকে এই ক্রেটারের নাম টাইকো। যা ৫০ মাইলেরও বেশি প্রশস্ত সৃষ্টি হয়েছিল এমনি একটি গ্রহাণুর আঘাতে যা আজকে পৃথিবীর দিকে ধাবমান। কিন্তু আজ চাঁদ তার ঠিক জায়গায়ই আছে, ঠিক সময়ে। কোনো কিছুই আজ পৃথিবীকে বাঁচাতে পারবে না এই গ্রহাণুর আঘাত থেকে। এই গ্রহাণুটি এলিয়েনদের মতো নয়, এটি আসলে পৃথিবীর আকৃতিতে, শক্ত পাথর ও পানি দিয়ে তৈরি। স্পেসের শূন্য জায়গায় পানি অবিশ্বাস্য শক্ত রূপ ধারণ করে, তার সঙ্গে আছে পাথর ও ধুলাবালি। কিন্তু এর ভেতরের রাসায়নিক পদার্থ ছিল কার্বন, হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন। জীবনের অস্তিত্ব বহনকারী কিছু উপাদান।
এখন, গ্রহাণুটি মাত্র ২০ মিনিট দূরে। ২ ট্রিলিয়ন টন পাথরের তৈরি এই চাঁই ধেয়ে আসছে পৃথিবীর দিকে। যখন এটি পৃথিবীর কাছাকাছি আসে এর গতি দ্রুত হয়ে যায়। যখন পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করল, বাতাসের ঘর্ষণে এটি একটি জ্বলন্ত আগুনের গোলাতে রূপ নিয়ে চলছে আটলান্টিকের ওপর দিয়ে, লক্ষ্য মেক্সিকো।
মাত্র ৪ মিনিটে পাড়ি দেয় আটলান্টিক মহাসাগর, জ্বলছে ৩৫,০০০ ডিগ্রি উষ্ণতায়, যা কয়েক মিলিয়ন সূর্যের উত্তাপকেও হার মানাবে।
আকাশে মাত্র ৫ সেকেন্ড দৃশ্যমান থেকে আঘাত করে ম্যাক্সিকান উপসাগরে। ঘটনাটি মনে হলো তাৎক্ষণিক, কিন্তু এর আসল রূপ তখন ঢাকা ছিল কারণ খালি চোখে তা অনুধাবন করার মতো নয়, সে কী পরিমাণ ধ্বংস নিয়ে এসেছে। ৩০ ডিগ্রি কোণে এটা আঘাত করে, তার মানে এর ধ্বংসাত্মক সব শক্তি সংঘর্ষ স্থানের উত্তর দিকে নিক্ষিপ্ত হবে। আগুনের গোলা যখন তা আঘাত করল, আকাশসহ গোটা পৃথিবীর একপাশ অকল্পনীয় আলোকচ্ছটায় ঝলসে উঠল। গ্রাউন্ড জিরো থেকে ৫০০ মাইল দূরে হলেও, আলোর ঝলকানি এতই তীব্র ছিল যে অ্যালামেসরার পাতলা চামড়া ট্রান্সপারেন্ট হয়ে দেখে গেল। কিছু সময়ের জন্য তাদের চোখ ঝলসে গেল। তাদের কাছে কোনো উপায় ছিল না, যে সামনে কী ঘটছে তা জানবে। তবে তারা এই ভয়াবহতা অনুভব করতে পারছিল। প্রায় একশ’ মিলিয়ন মেগাটন ক্ষমতার এই বিস্ফোরণ, আজ পর্যন্ত যত পারমাণবিক অস্ত্র নির্মিত হয়েছে তার সব থেকে অধিক শক্তিশালী। যদি এই গ্রহাণুটি মধ্য সাগরে পতিত হতো, তবে এর ধ্বংসাত্মক শক্তি ও ক্ষমতা অনেক খানি কমে যেত, কেননা সাগরের গভীরতা ও পানি একে শোষণ করে নিত। কিন্তু তা ঘটেনি, এটি আঘাত করে মেক্সিকান উপসাগরের অগভীর অঞ্চলে, যেটুকু পানি ছিল তা তাৎক্ষণিকভাবে শোষিত হয়ে যায়। ইমপ্যাক্ট স্থান থেকে ৫০০ বর্গমাইল এলাকা, তাপমাত্রা উন্নীত হলো ৬০০ ডিগ্রিতে, ডাইনোসরের চামড়া খসিয়ে দিতে যথেষ্ট। প্যাসিফিক নর্থ ওয়েস্টে বসে ক্যাযাকুয়াটলাসগুলো এই আগুনের ফুলকি স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছিল যা ৩০০ মাইল দূরে ছিল।

সূত্রঃ দৈনিক মানবকণ্ঠ ১২/০৬/২০১৩

Check Also

জলবায়ু পরিবর্তনঃ যে ৯ টি কারণে ২০১৮ তে আমরা আশাবাদি হতেই পারি!

সাদিয়া লেনা আলফি গেল বছরটি ছিলো জলবায়ুর জন্য বেশ আশঙ্কাজনক। বিষয়টি মূলত ঘটেছে বর্তমান বিশ্বের …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *