আমদানির পরই আঙ্গুরে স্প্রে করা হয় কেমিক্যাল

অসুস্থ মানুষজনকে দেখতে গেলে প্রায় সবাই তার জন্য যে ফলটি সবচেয়ে বেশি নিয়ে যান তা হলো আঙ্গুর। রোগীর স্বজন কিংবা বন্ধুরা মনে করেন, ফলটি সুস্বাদু এবং রোগীর জন্য ভালো হবে। কিন্তু তারা কি জানেন এই আঙ্গুরে ঠিক কি পরিমাণে রাসায়নিক মেশানো হয়?

মূলত আঙ্গুর আমদানি হয়ে দেশে আসার সঙ্গে সঙ্গে ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক স্প্রে করেন।

ফল আমদানিকারক সমিতির (ফল ব্যবসায়ী সমিতি) সভাপতি হাজী মো. সেলিম গতকাল ইত্তেফাককে জানান, বিদেশ থেকে আঙ্গুরসহ অন্য আমদানিকৃত ফলে সামান্য পরিমাণ রাসায়নিক থাকে। সেটা বিজ্ঞান ও স্বাস্থ্যসম্মত। ভারত, পাকিস্তান, সৌদি আরবসহ কয়েকটি দেশ থেকে আঙ্গুর আমদানি করা হয়ে থাকে। এদেশে ফল আসার পর দীর্ঘদিন রেখে বিক্রি ও পচনরোধে ফরমালিন ও কেমিক্যাল সংমিশ্রণে দ্রবণ স্প্রে করে মেশানো হয়। একশ্রেণীর আড়ত মালিক ও আমদানিকারক এ কাজটি করে থাকেন। image_51319

জানা গেছে, দেশে দীর্ঘদিন ফল রেখে বিক্রির জন্য উপযোগী কোন সংরক্ষণাগার নেই। তাই ব্যবসায়ীরা ফল আমদানি করে নিজেরা তাতে বিভিন্ন রাসায়নিক ও ফরমালিন মিশিয়ে ওই দ্রবণটি স্প্রে করে গুদামে রেখে দেয়। সেই ফল মাসের পর মাস রাখলেও তাতে পচন ধরে না এবং ফল তরতাজা টাটকা থাকে।

ফল ব্যবসায়ীরা বলেন, দেশীয় উত্পাদিত ফলে রাসায়নিক দ্রব্য মেশানোর সম্পর্কে অনেকের বিজ্ঞানসম্মত ধারণা নেই। সেই ক্ষেত্রে কৃষিবিদরা ফল চাষীদের কেমিক্যাল ব্যবহার সম্পর্কে সচেতন করতে পারেন বলে জানান হাজী সেলিম। মোবাইল কোট প্রায়ই অভিযান চালিয়ে অন্যান্য ফলের সঙ্গে আঙ্গুরে প্রচুর পরিমাণ ফরমালিন ও কেমিক্যাল থাকার প্রমাণ পেয়েছে। ইতিমধ্যে বিপুল পরিমাণ কেমিক্যালযুক্ত আঙ্গুর ধ্বংস ও জড়িত শতাধিক ব্যবসায়িকে জেল জরিমানা করলেও তাদের টনক নড়েনি।

শিশু, গাইনি, ক্যান্সার, কিডনি, লিভার ও স্নায়ু রোগ বিশেষজ্ঞ চিকিত্সকরা বলেন, বিষাক্ত আঙ্গুর ফল খেলে ক্যান্সার, কিডনি, লিভারসহ মরণব্যাধি হওয়ার আশংকা বেশি। শেরেবাংলা নগরস্থ ঢাকা শিশু হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মনজুর হোসেন ও মহাখালী ক্যান্সার ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ডা. গোলাম মোস্তফা বলেন, আঙ্গুরসহ যে কোন ফলে সামান্য কেমিক্যালই মানবদেহের ক্ষতির জন্য যথেষ্ট। ফরমালিনসহ যে কোন কেমিক্যাল স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি।

সূত্রঃ দৈনিক ইত্তেফাক (২৬/০৬/২০১৩)

Check Also

নাইট্রজেন চক্রের কথকতা, পর্ব-২

বাধাধরা নিয়মের পরেও লাগাম কেন হাতছাড়া এটা ধরতেই গবেষণা করেছেন ‘কলোরাডো স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়’র গবেষকেরা। নাইট্রেট নিয়ে গবেষণা করলেও তারা কিন্তু অ্যামোনিয়ার বিষয়টি আসলে আগে বিবেচনায় আনেননি। ঝামেলাটা ধরা পড়ল সেখানেই। কৃষিক্ষেত্র থেকে নির্গত অ্যামোনিয়ার পরিমাণ ছাড়িয়ে গেছে জীবাশ্ম জ্বালানীকেও!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *