হ্রদ

SpringLkহ্রদ (lake) হলো ভূ-বেষ্টিত লবণাক্ত বা মিষ্টি স্থির পানির বড় আকারের জলাশয়। হ্রদ উপসাগর বা ছোট সাগরের মতো কোনো মহাসমুদ্রের সঙ্গে সংযুক্ত নয়, তাই এতে জোয়ার-ভাটা হয় না। বিভিন্ন ভূ-তাত্ত্বিক কারণে মাটি নিচু হয়ে হ্রদের সৃষ্টি হতে পারে। স্তরীভূত শিলায় ভাঁজের সৃষ্টি হয়ে, অনেক বড় আকারের শিলাস্তর ফল্টের আকারে স্থানচ্যুত হলে, কিংবা ভূমিধসের ফলে পাহাড়ি নদীর গতিপথে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হয়ে হ্রদের সৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া হিমবাহের মাধ্যমেও অনেক হ্রদ তৈরি হয়। হিমবাহগুলো এদের গতিপথে ভূ-পৃষ্ঠে গভীর খাঁজের সৃষ্টি করে এবং পরবর্তীতে কোনো কারণে হিমবাহগুলো সরে গেলে এসব স্থানে হ্রদের সৃষ্টি হয়। সরাসরি বৃষ্টিপাত ও হ্রদে পতিত হওয়া নদী বা জলধারা হ্রদে পানির সরবরাহ করে। ঊষর জলবায়ু অঞ্চলে হ্রদ শুকিয়ে বদ্ধ জলাভূমিতে পরিণত হয়। স্বল্প-বৃষ্টিপ্রবণ অঞ্চলে ঋতুভেদে হ্রদগুলো পানিতে ভরাট হয় ও আবার বহুদিনের জন্য শুকিয়ে যায়। সমুদ্র সমতল থেকে যে কোনো উচ্চতাতেই হ্রদ গঠিত হতে পারে। সারা বিশ্বের হ্রদগুলো বিভিন্ন উচ্চতায় অবস্থিত। অনেক হ্রদ মাছ ও খনিজ পদার্থের উৎস হিসেবে, অবকাশ কেন্দ্র হিসেবে ও অন্যান্য দিক থেকে বাণিজ্যিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কাস্পিয়ান সাগর, লেক সুপিরিয়র ও লেক ভিক্টোরিয়া বিশ্বের বৃহত্তম তিনটি হ্রদ।

জুনায়েদ তানভীর

Check Also

জলবায়ু পরিবর্তনঃ যে ৯ টি কারণে ২০১৮ তে আমরা আশাবাদি হতেই পারি!

সাদিয়া লেনা আলফি গেল বছরটি ছিলো জলবায়ুর জন্য বেশ আশঙ্কাজনক। বিষয়টি মূলত ঘটেছে বর্তমান বিশ্বের …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *