পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ফুল

worlds_largest_flower_8sfwফুলের অপরূপ সৌন্দর্যে প্রকৃতিপ্রেমীরা শুধু মুগ্ধই হন না, মাঝে মধ্যে বিস্মিতও হন। বিস্ময়কর এমনই একটি ফুলের নাম রাফলেশিয়া আরনোন্ডি। এটি রাফলেশিয়া পরিবারভুক্ত একটি ফুল। গবেষকদের তথ্যানুযায়ী, পৃথিবীতে বড় আকৃতির ফুলের মধ্যে এই বর্গের ফুলই সবচেয়ে বড়। এটি ‘মৃতদেহ ফুল’ নামেও পরিচিত। সাধারণত এই ফুল বেশি দেখা যায় ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রা দ্বীপের যে বনগুলোতে সবসময় ঝরঝর করে বৃষ্টি পড়ে সেখানে। মজার ব্যাপার হলো, ফুলটির বংশ পরিচয় নির্ণয় করতে একসময় বিজ্ঞানীদের বেশ হিমশিম খেতে হয়েছিল। উদ্ভিদতাত্ত্বিক শ্রেণীবিন্যাসে এটির অবস্থান ঠিক কোথায় তা কিছুতেই নির্ধারণ করতে পারছিলেন না উদ্ভিদবিজ্ঞানীরা। অবশেষে এর সমাধান বের করেন হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের রেভলিউশনারি বায়োলজির অধ্যাপক চার্লস ডেভিস। অনেক গবেষণার পর তিনি সিদ্ধান্ত দেন, রাফলেশিয়া এক ধরনের ছোট্ট ফুল ‘ইউফোরবিয়াসে’ পর্বের সদস্য। বিজ্ঞানী চার্লস ডেভিসের গবেষণায় উঠে আসে, আজ থেকে প্রায় সাড়ে চার কোটি বছর আগে এই ফুলটি ফুটতে শুরু করে। বন-জঙ্গলে মাটির কাছাকাছি হঠাৎ উঠে দাঁড়ানো কাণ্ড আর পাতাবিহীন টকটকে লাল রঙের এই ফুলটি বহুদিন বিজ্ঞানীদের বিভ্রান্ত করেছে। রাফলেশিয়া অদ্ভুত বৈশিষ্ট্যের একটি ফুল।
একেকটি ফুলের ওজন এগার কেজি পর্যন্ত হয়ে থাকে এবং চওড়া হয় প্রায় এক মিটার। মূল, কাণ্ড ও পাতাবিহীন রাফলেশিয়া মূলত পরজীবী। এটি ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় ফুল। রাফলেশিয়ার পাতা না থাকায় এটি নিজে খাদ্য তৈরি করতে পারে না। জঙ্গলের আঙ্গুর লতার ওপর জন্ম নিয়ে তার রস শুষেই বেঁচে থাকে বৃহদাকৃতির এ ফুলটি। টকটকে লাল রং এবং বড় পাপড়ি দিয়ে আবৃত থাকে। ফুলটি সবাইকে মুগ্ধ করলেও এর গন্ধ কিন্তু মোটেও কাউকে আকৃষ্ট করে না। সবচেয়ে বাজে গন্ধ ছড়ায় ফুলটি। পচা মাংসের মতো দুর্গন্ধের কারণে ফুলটির ধারেকাছেও কেউ ঘেঁষতে চায় না। এ কারণেই ফুলটির আরেক নাম দেয়া হয়েছে মৃতদেহ ফুল। তবে মানুষের পক্ষে ফুলটির গন্ধ বাজে লাগলেও কীটপতঙ্গের কাছে এটিই সুগন্ধি ফুল। ফলে নানা প্রজাতির কীটপতঙ্গ উড়ে এসে ফুলে বসে। ঘটায় পরাগায়ন। এর ফলে জন্ম নেয় নতুন বীজের। এভাবেই ফুলটি টিকে আছে বহুকাল ধরে।

জুনায়েদ তানভীর ১৭/০৭/২০১৩

Check Also

জলবায়ু পরিবর্তনঃ যে ৯ টি কারণে ২০১৮ তে আমরা আশাবাদি হতেই পারি!

সাদিয়া লেনা আলফি গেল বছরটি ছিলো জলবায়ুর জন্য বেশ আশঙ্কাজনক। বিষয়টি মূলত ঘটেছে বর্তমান বিশ্বের …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *