বৃষ্টি…… তবে মাছের !!!!!

রাযীন আশরাফ

প্রকৃতিতে এমন কত ঘটনা ঘটে যা আমাদের অবাক করে দেয়। বিশ্লেষণের অতীত আর অদ্ভুত আচরণীয় বৈশিষ্ট্যের কারণে ঘটনাগুলো আমাদের ব্যাপক চিন্তার খোরাক যোগায়। কিছুক্ষণের জন্য বিশ্বাসই করা যায় না এই সব বিরল ও বিস্ময়কর ঘটনাও ঘটে যেতে পারে চোখের নিমিষে। মাছ। কাছিম, কাঁকড়া এহেন জলজ প্রাণীদের বিচরণ জলে হবে এটাই স্বাভাবিক, কিন্তু গোল বাঁধে যখন বৃষ্টির মতো মাছ পড়তে শুরু করে আকাশ থেকে। অবাক হচ্ছেন তো ??? না না, ঠিকই পড়ছেন, মাছ বৃষ্টি। মাছ বৃষ্টিই হয়ে গেলো হুন্ডুরাসে।

ভাবতে অবাক লাগলেও সত্যি হন্ডুরাসে মাছ বৃষ্টি  হচ্ছে। যদিও বিজ্ঞানীরা এর নানা রকম ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তবে এর রহস্য উন্মোচনের অনেক অংশই বাকি রয়েছে।

এই মাছ বৃষ্টির ঘটনা হন্ডুরাসবাসীর কাছে খুব সাধারণ। তাদের মতে এই মাছ বৃষ্টি বছরের মে থেকে জুলাই এর মধ্যে হয়ে থাকে। প্রকৃতির এই অদ্ভুত আচারণের প্রথম সংকেত হল আকাশে কালো মেঘ জমবে এবং এরপর শুরু হবে তুমুল বেগে বৃষ্টি। তার সাথে হবে বজ্রপাত। অবিরাম এই বৃষ্টির সাথে মাটিতে আছড়ে পরে অসংখ্য জীবন্ত মাছ । এ রকম চলে প্রায় ২-৩ ঘণ্টা। আর বৃষ্টি থেমে যাওয়ার পর শত শত জীবন্ত মাছ পড়ে থাকতে দেখা যায় মাটির ওপরে।লোকজন এই মাছ কুড়িয়ে আনে এবং খায়।fish rain in hunduras

হন্ডুরাসবাসীরা প্রকৃতির এই বিরল আচারণে এবং এ ঘটনার জন্য ১৯৯৮ থেকে প্রতি বছর উৎসবের আয়োজন করে থাকে।

ফ্রান্সের প্রকৃতিবিজ্ঞানী এন্দ্রে মেরি এমপেরের মতে, আটলান্টিক মহাসাগরে সংঘটিত টর্নেডো উঠিয়ে নিয়ে আসে এই মাছগুলো এবং ২০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত হন্ডুরাসের ইউরো শহরে ফেলে।তবে প্রতি বছর একই সময় টর্নেডো আটলান্টিক মহাসাগর থেকে মাছ উঠিয়ে এনে ইউরোতেই ফেলবে-এ ধরনের কাকতালীয় ঘটনা অনেকের মতে অসম্ভব।

আবার অনেকের মতে এ মাছগুলো স্বাদু পানির এবং সাঁতরে কাছের নদী কিংবা জলাশয় থেকে ভূগর্ভস্থ জলাধারে আশ্রয় নেয়।ভারী বৃষ্টিতে মাটি ধুয়ে গেলে মাছগুলো উন্মুক্ত হয়ে পড়ে। অনেকে মনে করেন , ১৮৫৬-১৮৬৪ সালে হন্ডুরাসে আসা এক সাধুর কারণে এ মাছ বৃষ্টি হয়।

তাদের কাছ থেকে জানা মতে , অনেক অভাবী লোক দেখে সেই সাধু তিন দিন, তিন রাত সৃষ্টিকর্তার কাছে অভাবীদের খাবারের চাহিদা মেটানোর মতো কোনো অলৌকিক ঘটনার জন্য প্রার্থনা করেছিলেন। সেই অলৌকিক ঘটনাই হচ্ছে এই মাছ বৃষ্টি, এমনটাই তাদের বিশ্বাস।

ঘটনা যাইহোক না কেন, রহস্যের কিনারা যে সহজে হচ্ছেনা সেটা বোঝাই যাচ্ছে। দেখা যাক অপেক্ষা করে বিজ্ঞান আমাদের কি সমাধান দেয়……

Check Also

এসেছে বাংলার ওয়াইল্ড মেন্টর

এই অ্যাপটির প্রধান উদ্দেশ্য, বিভিন্ন প্রাণির সামগ্রিক বিবৃতি উপস্থাপন। বৈজ্ঞানিক নাম থেকে শুরু করে, কোনো একটি নির্দিষ্ট প্রাণির বিভিন্ন বয়সের ছবি, স্বভাব, আচরণ, আকার-আকৃতি, রঙ, খাদ্য, ইত্যাদি সামগ্রিক ধারণা পাওয়া যাবে এখানে খুব সহজেই। এমনকি পৃথিবীর কোথায় কোথায় এর অস্তিত্ব আছে, সেটিও ম্যাপের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে এখানে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *