আজ ঢাবি’তে মেরিন কনজারভেশন ও সামুদ্রিক অর্থনীতি বিষয়ক মুক্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত

ফারজানা হালিম নির্জন

আজ, ৭ নভেম্বর, ২০১৫; ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘মৃত্তিকা, পানি ও পরিবেশ’ বিভাগের গ্যালারী ঘরে ‘ফিউচার ইন মেরিন করজারভেশন অ্যান্ড ব্লু কার্বন; অ্যা ডিসকাশন উইথ গার্থ ক্রিপ্স’ শীর্ষক মুক্ত আলোচনা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। পূর্বনির্ধারিতভাবেই প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ‘ব্লু ভেনচার’-এর অন্যতম বিশেষজ্ঞ, সমুদ্র সংরক্ষণবিদ এবং ব্লু ইকোনমি বিশেষজ্ঞ ড. গার্থ ক্রিপ্স।

বক্তব্য রাখছেন তাওহীদ হোসাইন
বক্তব্য রাখছেন তাওহীদ হোসাইন

অনুষ্ঠানটি শুরু হয় সকাল সাড়ে দশটা নাগাদ। শুরুতেই স্বাগত ভাষণ হিসেবে বক্তব্য রাখেন ‘এনভায়রনমেন্টমুভ ডট কম’ এর সিইও এবং প্রধান সম্পাদক তাওহীদ হোসাইন। ড. গার্থ ক্রিপ্স বাংলাদেশে মূলত এসেছেন সুন্দরবনে ৭ দিনের সফরে। এতো ব্যাস্ততার মাঝেও বাংলাদেশ সফরের শেষ কিছু সময় আজকের এই মুক্ত আলোচনায় ব্যয় করার জন্য তাওহীদ হোসাইন ড. গার্থ ক্রিপ্সকে আগাম কৃতজ্ঞতা জানান। সেই সাথে তিনি বলেন, ড. গার্থ ক্রিপ্স কে এমন একটি আয়োজনে প্রধান বক্তা হিসেবে পাওয়ার সুযোগটি তিনি কিছুতেই হাতছাড়া করতে চান নি, যেহেতু বর্তমান বিশ্ব এবং বিশেষত বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে আজকের আলোচ্য বিষয়টি খুব গুরুত্বপূর্ণ।  তারপর বক্তব্য রাখেন, ‘সেভ আওয়ার সি’র সিইও মোহাম্মদ আরজু। তিনি বলেন, প্রায় আড়াই বছর ধরে তিনি ‘ব্লু ভেনচার’ সংস্থা দ্বারা উপকৃত হয়ে আসছেন। কিন্তু গত ৭ দিন ড. গার্থ ক্রিপ্সের সাথে সুন্দরবনে সময় কাটিয়ে উপলব্ধি করতে পেরেছেন, তাঁদের কাজের ধারা এতো সহজ ও মসৃণ নয়।

12227662_1208934499121733_7249647523899117181_n
ড. গার্থ ক্রিপ্স, কথা বলছেন মেরিন কনজারভেশন সম্পর্কে…

অতঃপর ড. গার্থ ক্রিপ্স তাঁর মূল্যবান বক্তব্য প্রদান করেন। সামগ্রিকভাবে ম্যানগ্রোভ বন এবং মেরিন ইকোসিস্টেম নিয়ে বক্তব্য প্রদানের পর তাঁর কার্যক্ষেত্র, অর্থাৎ মাদাগাস্কার এর সমুদ্র উপকূলবর্তী মানুষের জীবন যাত্রা, মেরিন ইকোসিস্টেমের সাথে তাঁদের যোগসূত্রতা এবং  একইসাথে সমুদ্র এবং ম্যানগ্রোভ বনের উপর নির্ভরশীলতার কথা ব্যাক্ত করেন। তারপর তিনি ‘ব্লু ভেনচার’; তাঁদের সংস্থার কাজের পরিধি এবং পদ্ধতি সম্পর্কে ধারণা দেন।

বক্তব্য চলাকালীন মনোযোগী শ্রোতা...
বক্তব্য চলাকালীন মনোযোগী শ্রোতা…

তাঁদের কাজ পরিচালনা করা হয় নির্দিষ্ট ভিশন সামনে নিয়ে। যেমন ২০২০ সালের মধ্যকার ভিশন রয়েছে ‘ইমপ্লিমেন্টিং টু ইনফ্লুয়েন্সিং’ কে কেন্দ্র করে। প্রথমত সমুদ্রের মাছ রক্ষা এবং পরিকল্পিত উপায়ে তা সংরক্ষণ ও রক্ষণাবেক্ষণ করার মাধ্যমেই ‘ব্লু ভেনচার’ এর যাত্রা শুরু হয়। ব্লু কার্বন ইকোনমির ক্ষেত্র বৃদ্ধি এবং একই সাথে ব্লু কার্বন কে আরো সমৃদ্ধ করার পূর্বশর্ত হলো মেরিন ইকোসিস্টেম কে সংরক্ষণ করা, ড. গার্থ ক্রিপ্স এই লক্ষ্য নিয়েই ধীরে ধীরে এগুচ্ছেন। তিনি সম্প্রতি তাঁর সুন্দরবন যাত্রা সম্পর্কেও অভিমত ব্যাক্ত করেন। বঙ্গোপসাগরের তীরঘেষা দেশ, বাংলাদেশের মেরিন ইকোসিস্টেম নিয়ে জোরালোভাবে কাজ করার জন্য তিনি সকলকে আহ্বান জানান।

প্যানেলিস্টস !
প্যানেলিস্টস !

ক্রিপ্সের বক্তব্যের শেষে একটি প্রশ্নোত্তর পর্ব শুরু হয়। আলোচনার জন্য প্যানেলে উপস্থিত ছিলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. নিয়ামুল নাসের, মৃত্তিকা, পানি ও পরিবেশ বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. সিরাজুল হক, উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আবদুল আজিজ, ‘ম্যানগ্রোভস ফর দ্যা ফিউচার’ (এমএফএফ) এর সহকারি প্রকল্প ব্যাবস্থাপক এনামুল মজিদ খান সিদ্দিক এবং ড. গার্থ ক্রিপ্স তো প্যানেলের মধ্যমণি হিসেবে ছিলেনই। দর্শক সারি থেকে বিষয়ভিত্তিক বিভিন্ন রকমের প্রশ্ন ছুঁড়ে দেয়া হয় প্যানেলিস্টদের দিকে। তাঁরা অকপটে এসব প্রশ্নের উত্তর দেন। চমৎকার এই প্রশ্নোত্তর পর্বটি পরিচালনা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের প্রভাষক এবং সেভ আওয়ার সি’র গবেষনা পরিচালক আলিফা বিন্থা হক।

প্রশ্নোত্তর পর্ব শেষে ড. গার্থ ক্রিপ্স সহ সকল প্যানেলিস্ট এবং উপস্থিত সম্মানিত শিক্ষকমন্ডলীদের দুপুরের খাবার পরিবেশন- আতিথেয়তার মাধ্যমে আজকের অনুষ্ঠানের সফল সমাপ্তি টানা হয়।

12187718_989335717776664_4744462986105750060_n
আয়োজকদের সাথে ড. গার্থ ক্রিপ্স

এই অনুষ্ঠানের যৌথ উদ্যোক্তা হিসেবে কাজ করেছে; বাংলাদেশের পরিবেশ বিষয়ক জনপ্রিয় ওয়েবপোর্টাল ‘এনভায়রনমেন্টমুভ ডট কম’ এবং সমুদ্র সম্পদ সংরক্ষণ ও সামুদ্রিক অর্থনীতি বিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘সেভ আওয়ার সি’। এই সফল আয়োজনের পেছনে সার্বিক সহায়তা প্রদান করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘মৃত্তিকা, পানি ও পরিবেশ’ বিভাগের চেয়ারম্যান, অধ্যাপক ড. সিরাজুল হক সহ সম্মানিত শিক্ষকমন্ডলী এবং ছাত্র-ছাত্রীবৃন্দ।

Check Also

বাংলাদেশের পরিপ্রেক্ষিতে সবুজ অর্থনীতি !

সবুজ অর্থনীতি বর্তমানে গোটা বিশ্বে আলোড়ন তুলছে। তার প্রভাব বাংলাদেশেও কিন্তু পড়ছে, যা মোটামুটি সন্তোষজনক। কী হচ্ছে বাংলাদেশে?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *