ধূলা দূষণ রোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি

শুষ্ক মৌসুম আসতে না আসতেই মহানগরী ঢাকায় ধূলা দূষণ ব্যাপকভাবে বেড়ে গেছে। ধূলা দূষণে অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে ধূলাজনিত রোগব্যাধির প্রকোপ। এ ছাড়াও ধূলা দূষণের ফলে বাসা বাড়িসহ দোকানের মূল্যবান জিনিস দ্রুত নষ্ট হয়ে যায় এবং এসব পরিষ্কার করতে প্রতিদিনকার মূল্যবান সময়ের একটি উল্লেখযোগ্য অংম ব্যয় করতে হয়। ফলে ধূলা দূষণে একদিকে যেমন স্বাস্থ্যগত ক্ষতি হচ্ছে তেমনি আর্থিক ও পরিবেশেরও ক্ষতি হচ্ছে। জনস্বাস্থ্য,পরিবেশ ও অর্থনীতির উপর নেতিবাচক প্রভাব বিবেচনায় অবিলম্বে ধূলা দূষণ রোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ অত্যন্ত জরুরী।

আজ ২১ নভেম্বর ২০১৫ইং শনিবার, সকাল ১১ টায়, শাহবাগস্থ চারুকলা অনুষদের সামনে পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন (পবা) এবং আইনের পাঠশালার যৌথ উদ্যোগে ”ধূলা দূষণ রোধে কার্যকর পদক্ষেপ চাই” দাবীতে আয়োজিত মানববন্ধনে বক্তারা উক্ত দাবী জানান।

পবার যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও নাসফের সভাপতি হাফিজুর রহমান ময়নার সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন আইনের পাঠশালার সভাপতি এডভোকেট সুব্রত দাস খোকন, পবার সমন্বয়কারী আতিক মোরশেদ, প্রোগ্রাম ম্যানেজার সুমন রহমান, পরিবেশ উন্নয়ন সোসাইটির সভাপতি বুরহান উদ্দিন আহমেদ, সমন্বয়কারী মোকম্মেল হোসেন চৌধুরী মেনন, পুরান ঢাকা নাগরিক উদ্যোগের সভাপতি নাজিম উদ্দিন, আইনের পাঠশালার প্রধান সমন্বয়কারী মীর ইফতিয়ার হোসেন, হোম ইকোনোমিকস কলেজের ছাত্রী প্রতিনিধি জ্যোতি চৌহান, বাংলাদেশ সাইকেল লেন বাস্তবায়ন পরিষদের সভাপতি আমিনুল ইসলাম টুরবুস, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র প্রতিনিধি মিহির দাস প্রমুখ।IMG_1617

বক্তারা বলেন, শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ ব্যক্তিদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম হওয়ায় ধূলা দূষণের ফলে তারা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ধূলা দূষণের ফলে শারিরীক পরিচ্ছন্নতা ও সৌন্দর্য রক্ষার জন্যও অধিক সময়, শ্রম ও অর্থ ব্যয় হচ্ছে। জামা-কাপড় ধোঁয়া, বাসাবাড়ি ধোঁয়া-মোছার জন্য অতিরিক্ত পানি ও ডিটারজেন্ট ব্যবহার করতে হয়। আর এসব পরিষ্কারক দ্রব্যের পরবর্তী গন্তব্য হয় ড্রেনের মাধ্যমে আমাদের নদী, লেক, জলাধারসমূহে। যা জলজ প্রাণীসহ সামগ্রিক জীববৈচিত্রের জন্যও ক্ষতিকর। অতিরিক্ত পানি, বিদ্যুৎ ও ডিটারজেন ব্যবহারের ফলে পারিবারিকভাবে আর্থিক ক্ষতি ছাড়াও পরিবেশের ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হচ্ছে। ঢাকা মহানগরীর প্রতিটি মধ্যবিত্ত পরিবারকে ধূলা দূষণের কারণে প্রতি মাসে অতিরিক্ত ৪,০০০ থেকে ১০,০০০ ব্যয় করতে হচ্ছে।
ঢাকা শহরের চারপাশের ইটভাঁটার দূষণ, অধিক যানবাহনের বিষাক্ত ধোঁয়া, অনিয়মিত রাস্তাঘাট পরিষ্কার, অপরিকল্পিত রাস্তা খোড়াখুড়ি ও মেরামত, দালান-কোঠা বা অন্য কোন অবকাঠামো তৈরীর সময় নির্মাণ সামগ্রী রাস্তার উপর বা রাস্তার পাশে খোলা জায়গায় রাখা, গৃহস্থালিসহ বিভিন্নভাবে উৎপন্ন বর্জ্যের অব্যবস্থাপনাসহ নানাভাবে প্রতিদিন ধূলা উৎপন্ন হচ্ছে।

বক্তারা জানান-ধূলা দূষণ রোধে নিয়মিত রাস্তা পরিস্কার করতে হবে। পরিসেবার সংযোগ মেরামত, বৃদ্ধি ও নতুন সংযোগ স্থাপনের সময় রাস্তা খননে সৃষ্ট মাটি সম্পূর্ণরূপে সরিয়ে ফেলতে হবে। দালান-কোঠা বা অন্য কোন অবকাঠামো তৈরীর সময় নির্মাণ সামগ্রী রাস্তার উপর বা রাস্তার পাশে খোলা জায়গায় রাখা যাবে না। এমন কোন সামগ্রী যা থেকে ধূলা সৃষ্টি হতে পারে তা বহনের সময় সঠিক আচ্ছাদন ও প্রতিরোধ ব্যবস্থা নিতে হবে। রাস্তার পাশের ড্রেন নিয়মিত পরিস্কার করতে হবে। সিটি করপোরেশন কর্তৃক আবর্জনা সংগ্রহ ও পরিবহনের সময় যথাযথ সতর্কতা অবলম্বন করে। ঢাকার বাইরে থেকে ঢাকায় প্রবেশ করা যানবাহনগুলোর যথাযথভাবে পরিস্কার করতে হবে। ধূলা দূষণ যথাযথভাবে নিয়ন্ত্রণের জন্য সরকারকে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা ও তার যথাযথ বাস্তবভিত্তিক কার্যক্রম প্রয়োগ করতে হবে। পাশাপাশি ধূলা দূষণ ও এর ক্ষতিকর প্রভাব বিষয়ে নাগরিক সচেতনতা তৈরীর জন্য সরকারী, বেসরকারী সংগঠন ও সচেতন মহলকে যথাযথ দায়িত্ব পালন করতে হবে।

Check Also

নাইট্রজেন চক্রের কথকতা, পর্ব-২

বাধাধরা নিয়মের পরেও লাগাম কেন হাতছাড়া এটা ধরতেই গবেষণা করেছেন ‘কলোরাডো স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়’র গবেষকেরা। নাইট্রেট নিয়ে গবেষণা করলেও তারা কিন্তু অ্যামোনিয়ার বিষয়টি আসলে আগে বিবেচনায় আনেননি। ঝামেলাটা ধরা পড়ল সেখানেই। কৃষিক্ষেত্র থেকে নির্গত অ্যামোনিয়ার পরিমাণ ছাড়িয়ে গেছে জীবাশ্ম জ্বালানীকেও!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *