সবুজের আহ্বানে বাঁশখালী ইকোপার্ক

মোঃ সাইফুল ইসলাম

বাঁশখালী ইকোপার্ক চট্টগ্রাম জেলা শহর থেকে ৫০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে বাঁশখালী উপজেলার বামের ছড়া ও ডানের ছড়া এলাকায় অবস্থিত। এটি প্রায় ১০০০ হেক্টর বনভূমি সমন্বয়ে গঠিত একটি প্রাকৃতিক ইকোপার্ক। উঁচু-নিচু পাহাড়, লেক, সবুজ গাছপালায় ঘেরা বনাঞ্চল ও বঙ্গোপসাগরের বিস্তৃত তটরেখা নিয়ে গঠিত হয়েছে পার্কটি।bashkhali eco park 1
বুধবার একাকী ক্ষণিকের জন্য পার্কটি দর্শনের জন্য গিয়েছিলাম। পার্কের ভিতর নির্জনতায় কয়েক ঘন্টা হেঁটে চলি। সবুজ গাছপালা ও জঙ্গলের ভিতর দিয়ে, সরু রাস্তা ধরে চলতে চলতে প্রকৃতির মাঝে হারিয়ে যাওয়ার সুযোগ হয়েছিল। সত্যিকারার্থে ব্যস্ত শিক্ষাজীবনে এমন একটা নির্জন স্থানই আমাকে ডাকছিল। তাই সুযোগ পেয়েই ছুটে গিয়েছিলাম। তবে নির্জনতারও কিছু খারাপ দিক আছে। তা হয়তো লেখার শেষের দিকে তুলে ধরবো।bashkhali eco park 2
প্রবেশপথ দিয়ে ঢুকেই সরু রাস্তা দিয়ে হাঁটতে থাকলে কিছুক্ষণ পরই দৃশ্যপটে আসে ঝুলন্ত সেতু। কাঠের পাটাতনে নির্মিত সেতুটি ১২২ মিটার বা ৪০০ ফুট দীর্ঘ। ২০০৪-০৫ সালে নির্মিত সেতুটির ধারণক্ষমতা অনধিক ২৫ জন।

সেতু পাড় হয়ে উঁচুর দিকে হাঁটা শুরু করতেই কানে ভেসে আসল পাখির ডাক। প্রকৃতির বন্ধুদের কূজনে আনমনে হেঁটে যাই অনেকটা পথ। এই পার্কে ৮৫ প্রজাতির পাখি, ৪৫ প্রজাতির স্তন্যপায়ী প্রাণী, ২৫ প্রজাতির সরীসৃপ ও ৭ প্রজাতির উভরচর প্রাণী রয়েছে। ১৯৯৭ সালের উদ্ভিদ জরিপ মতে, এখানে আরো আছে ৩১০ প্রজাতির উদ্ভিদ। যার মধ্যে ১৮ প্রজাতির দীর্ঘ বৃক্ষ, ১২ প্রজাতির মাঝারি বৃক্ষ, ১৬ প্রজাতির অর্কিড, ইপিফাইট ও ঘাস জাতীয় গাছ। হঠাৎ অতিরিক্ত নির্জনতার কারণে ভয়ে শরীর ছমছম করে ওঠে। একাকী এমন এক জঙ্গলের ভিতর দিয়ে ইচ্ছাস্বত্বেও আর বেশিদূর এগোতে পারিনি। প্যানোরমিক ভিউ দেখার জন্য রয়েছে উঁচু টাওয়ার। সেখান থেকে চারদিকে তাকালে আপনি মুগ্ধ হবেনই। তবে সেতুর নিচে পানি না থাকা, লেকগুলো প্রায় শুকিয়ে যাওয়া, স্থানীয়দের বনের ভিতর পরিষ্কার করার প্রতিযোগীতায় সৌন্দর্য আপনার কাছে অনেকটাই ম্লান হতে পারে!bashkhali eco park 3
যাওয়ার পথ: চট্টগ্রামের বহদ্দার হাট বাস টার্মিনাল, রাহাত্তার পুল, নতুন ব্রীজ/কর্ণফুলী ব্রীজ থেকে চট্টগ্রাম-বাঁশখালী সুপার সার্ভিস (ক্লোজ ডোর) লেখা বাসটিতে উঠবেন। বাঁশখালীর কোট বিল্ডিং এর সামনে নেমে অটোরিকশায় যাবেন মনছুরিয়া বাজার। এই বাজার থেকে রিকশাযোগে বামদিকে যেতে হবে ৪ কিলোমিটার। বলে রাখি, রাস্তাটির খুবই বেহাল দশা চলছে। যেতে কিছুটা কষ্ট হবে।bashkhali eco park 4
সময়সূচী ও টিকেট: জনপ্রতি ১৫ টাকা টিকেটে প্রতিদিন সকাল ৯ টা থেকে বিকেল ৫ টা পর্যন্ত দর্শনার্থী প্রবেশ করতে পারে। তবে সন্ধ্যার আগেই বের হতে হয়।
সতর্কতা: খুবই নির্জন। দর্শনার্থী এখন তেমন নেই বললেই চলে। তাই একাকী না যাওয়াই হবে বুদ্ধিমানের কাজ। রাস্তাঘাট মেরামত, দর্শনার্থীদের ভ্রমণের সুযোগ বৃদ্ধিসহ বেশকিছু উন্নয়নমূলক কাজের বাস্তবায়ন ঘটলে তবেই দর্শনার্থীদের সংখ্যা বাড়বে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও স্থানীয়রা। তবে এখনও যতটুকু দেখার আছে ততটুকুও হয়তো আপনার ভাল লাগতে পারে। তাই কোন এক অবসরে ঘুরে আসতে পারেন ইকোপার্কটি।

Check Also

জলবায়ু পরিবর্তনঃ যে ৯ টি কারণে ২০১৮ তে আমরা আশাবাদি হতেই পারি!

সাদিয়া লেনা আলফি গেল বছরটি ছিলো জলবায়ুর জন্য বেশ আশঙ্কাজনক। বিষয়টি মূলত ঘটেছে বর্তমান বিশ্বের …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *