আলোকচিত্রী আফজাল করিমের একক আলোক চিত্র প্রদর্শনী শুরু আজ

লিসান আসিব খান 

12728809_1740116769553973_2275115357961412676_n

খ্যাতিসম্পন্ন আলোকচিত্রী আফজাল করিম মনের মাধুরী মিশিয়ে ছবি তুলছেন দীর্ঘদিন। বাংলাদেশের যে কয়জন আলোকচিত্রী শিল্পী প্রতিভা আর উদ্যমের কল্যাণে নিজ স্বাক্ষরকে নতুন মাত্রায় প্রতিভাত করেছেন, আফজাল করিম তাঁদের মধ্যে অন্যতম।

ধানমন্ডির দৃক গ্যালারিতে আফজাল করিমের ফটোগ্রাফির একক প্রদর্শনী শুরু হয়েছে আজ।“ফরটি ইয়ারস অফ মাই জার্নি–মি অ্যান্ড মাই ফোকাস” শিরোনামের এই প্রদর্শনী চলবে আগামী রবিবার পর্যন্ত।

শিরোনামই বলে দেয় চিত্রকর্মগুলোর চূড়ান্ত প্রকাশ কোথায়! পলকহীন দৃষ্টিকে সৃষ্টি করতেই নানা অবয়ব নির্মাণ করেছেন তিনি।দৃষ্টিতে কখনো আলোর ঝলকানি,কখনো প্রতিবাদের আগুন, কখনোবা ফুটে উঠেছে দারুণ একাকিত্ব।

দীর্র্ঘদিন ধরে শিল্পীদের সঙ্গে কাজ করছেন আফজাল করিম। শিল্পীদের জন্য কাজ করতে গিয়ে কিংবা ব্যক্তিগত কারণেই হোক না কেনো, নিজের শিল্পী সত্তাটাকে একরকম চাপা দিয়েই রেখেছিলেন তিনি। মাঝে বেশ কিছু দলীয় প্রদর্শনীতে অংশ নিলেও, দর্শকদের কাছে এবারই প্রথম শুধু নিজের কাজ নিয়েই হাজির হলেন আফজাল করিম ।

20160219_164906

আজ বিকেল ৩টায় ঢাকা উত্তরের মেয়র আনিসুল হক প্রধান অতিথি থেকে প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন। এতে ১১৭টি বিশেষ আলোকচিত্রী প্রদর্শিত হবে, যা বাংলাদেশসহ সর্বমোট ৫টি দেশ থেকে তোলা হয়েছে। বন্যপ্রাণী ও পরিবেশ সম্পর্কে জনসাধারণের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করা ও বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল সংরক্ষণের জন্য বিশ্ববাসিকে সোচ্চার করে তোলাই এ প্রদর্শনী মূল উদ্দেশ্য।উদ্বোধনী পর্ব শেষে প্রদর্শনী ঘুরে দেখেন অতিথিরা।

IMG_20160219_185749

শিল্পীর সঙ্গে কথায় কথায় জানা গেল, ১৯৭৬ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে করা শিল্পচর্চারই একটি প্রতিফলন “ফরটি ইয়ারস অফ মাই জার্নি–মি অ্যান্ড মাই ফোকাস” শিরোনামের প্রদর্শনীটি। ১৯৭৬ সালে পরিবেশের নিয়ে ছবি তোলা দিয়ে শুরু হয় তাঁর পথ চলা ।অবশেষে ২০১২ সালে তিনি বন্য প্রাণীর ছবি তুলা শুরু করেন ।জম্মভূমির প্রকৃতিরূপ তাকে প্রচন্ড ভাবে আলোকচিত্র প্রভাবিত করেছে ,আর এ কারনেই ছবি তোলায় পেয়েছেন অনুপ্রেরণা।

আফজাল করিম বলেন , কয়েক বছর আগেও মুক্ত আকাশে দেখা মিলত ঘুঘু,কানিবক,ডাহুক সহ নানা প্রজাতির পাখির। কিন্তু আবাধে বন্দুক দিয়ে এইসব পাখি শিকার করার জন্য দিন দিন এদের সংখ্যা কমে যাচ্ছে। আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম হয়তোবা এদের মুক্ত আকাশে বিচরন আর দেখতে পারবে না।এ ইসব ছবির মাধ্যমে দর্শক কিছুটা হলেও বন্যপ্রাণীর প্রতি সদয় হবেন বলে আমার বিশ্বাস রয়েছে ।

তিনি আরও বলেন , বৈরী পরিস্থিতির শিকার হয়ে বন্যপ্রাণীদের অনেক প্রজাতি আজ এ দেশ থেকে হারিয়ে গেছে। কিছু কিছু প্রজাতি রয়েছে বিপন্ন তথা মহাবিপন্নের পথে। বিষয়টি চিন্তা করে বন্যপ্রাণী রক্ষার ক্ষেত্রে আমাদেরকে প্রচার-প্রচারণাসহ ব্যাপকভাবে আইনের প্রয়োগ ঘটাতে হবে। যাতে প্রকাশ্যে দিবালোকে কেউ বন্যপ্রাণী নিধন করতে না পারে। অবশ্য আমাদের সরকারকে এই বেপারে আরও কঠোর হতে হবে। এ ক্ষেত্রে শুধু আইন পাস হলেই চলবে না, তার প্রয়োগও হতে হবে যথাযথ। যাতে বন্যপ্রাণী নিধন আইনের ব্যাপক প্রয়োগ ঘটে দুষ্কৃতিকারীদের ওপর। সেই বিষয়ে কর্তৃপক্ষ সজাগ দৃষ্টি দিবেন আশা করছি।

প্রতিদিন দুপুর ৩টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা থাকবে এই প্রদর্শনী ।

Check Also

মৌসুমি ফলে বিষ দিয়ে নীরব গণহত্যা বন্ধের দাবি

মৌসুমী ফলের কুড়িঁ থেকে শুরু করে পাকা এবং বাজারজাত করন পর্যন্ত অত্যাধিক ও নির্বিচারে কীটনাশক ব্যবহারের ফলে জনগণ গুরুতর স্বাস্থ সমস্যার উচ্চ ঝুকিতে রয়েছে। ফলে চিকিৎসা ব্যবস্থার উপর চাপ বাড়ছে। এতে জনস্বাস্থ্যের ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। রাসায়নিক বিষ মেশানো ফল খেয়ে মানুষ পেটের পীড়া, শ্বাসকষ্ট, অ্যাজমা, গ্যাস্ট্রিক, লিভার নষ্ট হয়ে যাওয়া, ক্যানসারসহ দীঘর্ মেয়াদি নানা রকম রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *