ফুলের সুবাস ছড়িয়ে শেষ হল বাংলাদেশ ফ্লাওয়ার ফেস্ট-২০১৬

লিসান আসিব খান

_DSC0152

চারিদিকে রঙ বেরঙের নাম জানা-অজানা শত শত ফুল, আর তার মাঝখানে আপনি হেঁটে বেড়াচ্ছেন । যতদূর চোখ যায় ফুল আর ফুল , ফুলের সুভাসিত গন্ধ বিমোহিত করছে আপনাকে , যেন এ এক স্বর্গের ছোঁয়া । বাংলাদেশের জনগণকে এমনই এক ফুলের জগতের উপহার দিলেন বাংলাদেশ ফ্লাওয়ার সোসাইটি (বিএফএস)।ফুলের সুবাস ছড়িয়ে আজ শেষ হল দুই দিনব্যাপী ‘ফ্লাওয়ার ফেস্ট’ ২০১৬ ।প্রথমবারের মতো দেশে উৎপাদিত ফুল নিয়ে গতকাল মঙ্গলবার খামারবাড়ির কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে ‘দেশি ফুলের দেশি বাজার’ প্রতিপাদ্যকে রেখে শুরু হয় বাংলাদেশ ফ্লাওয়ার ফেস্ট-২০১৬ । মেলা উদ্বোধন করেন কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী । বাংলাদেশ ফ্লাওয়ার সোসাইটি (বিএফএস) এবং উইন্ডমেইলের যৌথভাবে আয়োজন করে এই উৎসব।আয়োজনে সহযোগিতা করে ইউএসএআইডির এভিসি প্রকল্প ও অনলাইনভিত্তিক ওয়েবসাইট দেশিফুল.কম।

মেলার ২০টি স্টলের ১৭টিতে স্বতন্ত্র প্রতিষ্ঠান আর বাকি তিনটিতে ২৩ জন ফুলচাষি গ্লাডিওলাস,  গোলাপ, রজনীগন্ধা . গোলাপ, গাঁদা, রজনীগন্ধা, বেলী, কামিনী, ডালিয়া, সূর্যমুখীসহ বিভিন্ন জাতের রঙ বেরঙের ফুল প্রদর্শন করেন ।

_DSC0065

মেলায় আগত ঢাকা সেন্ট্রাল ইন্টারন্যাশনাল  মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হসপিটালের শিক্ষার্থী বলেন ,“রঙ বেরঙের বর্ণিল ফুলে সজ্জিত আমাদের এই বাংলাদেশ , ইট পাথরের রাজধানীতে ফুলের দেখা পাওয়া যেখানে আকাশকুসুম ব্যাপার সেখানে এমন একটি উৎসবে দেশি ফুলের এই বিশাল সম্ভার দেখে সত্যিই খুব অবাক লাগছে এবং আশা করি ভবিষ্যতেও এমন উৎসবের আয়জন করা হবে ।”

প্রায় ৮০০ কোটি টাকার ফুল বিক্রি দিয়ে শেষ হয় ২০১৪-১৫ অর্থবছর। নাগরিকজীবনে চাহিদামাফিক ফুলের সরবরাহ নিশ্চিত করতে রাজধানী ঢাকাসহ অন্যান্য বড় শহরগুলোতে ফুলের বিরাট পসরা সাজিয়ে বসছেন ফুলের ব্যবসায়ীরা। গড়ে উঠেছে অসংখ্য পুষ্পবিপণী। প্রতিদিন যেখানে বিরাট অংকের অর্থের বাণিজ্য হচ্ছে। রাজধানী ঢাকার শাহবাগ, বেইলি রোডসহ আরও কয়েকটি জায়গায় অসংখ্য দোকান নিয়ে গড়ে উঠেছে বিরাট ফুলের বাজার। ক্রেতাদের রুচি ও চাহিদা অনুযায়ী ফুলের সরবরাহ নিশ্চিত করতে ফুলের ব্যবসায়ীরা গড়ে তুলেছেন শক্তিশালী নেটওয়ার্ক। তারা দেশের বিভিন্ন স্থানে উৎপাদিত নানা জাতের ফুল এনে বাজারজাত করছেন ।

_DSC0030

মেলায় আগত ফুল বিক্রেতার বলেন , “ যেহেতু ফুল দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়, সে কারণে নির্ধারিত গন্তব্যে দ্রুত ও যথাসম্ভব কম সময়ের মধ্যে ফুলের চালান পৌঁছানো নিশ্চিত করতে হবে। আমাদের দেশ থেকে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ফুল রপ্তানির ক্ষেত্রে দ্রুত পরিবহনের লক্ষ্যে বাংলাদেশ বিমান এবং  অন্যান্য কর্তৃপক্ষকে যত্নবান ও বিশেষভাবে মনোযোগী হতে হবে। ফুল পরিবহনের ক্ষেত্রে বিমানের আন্তর্জাতিক ফ্লাইটগুলোতে সুপরিসর কার্গো সার্ভিসের ব্যবস্থা ফুল রুপ্তানিকে আরও তরান্বিত করবে ।”

উৎসবে সেরা স্টল হিসেবে প্রথম স্থান অধিকার করে Florista.Delivery প্রতিষ্ঠানটি । প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে সাদমান রহিম এই পুরষ্কার গ্রহন করেন ।

দিনে দিনে দারুণ সম্ভাবনাময় হয়ে উঠছে বাংলাদেশের ফুলের বাজার। এক্ষেত্রে অনেক প্রত্যাশার সৃষ্টি হয়েছে। সাম্প্রতিক কয়েক বছরে বেশ এগিয়ে গেছে আমাদের পুষ্পবাণিজ্য। দেশের অভ্যন্তরে তো বটেই বিদেশেও বাংলাদেশের ফুলের বাজার বিস্তৃত হয়েছে। বর্তমানে পৃথিবীর ২০টি দেশে বাংলাদেশের ফুল এবং ফুলজাত পণ্য রফতানি হচ্ছে। এ ধরনের মেলা বাংলাদেশের ফুল চাষ তথা বাংলাদেশের ফুলের ভবিষ্যতকে আরও  সমৃদ্ধ করবে বলে আশা প্রকাশ করেন আয়োজকরা এবং ভবিষ্যতে এই ধারা অব্যাহত থাকবে বলে আশ্বস্ত করেন তারা।

 

 

 

 

Check Also

‘ঈদে ঝুঁকিমুক্ত ও নিরাপদ যাতায়াতে বিদ্যমান আইনের কঠোর প্রয়োগ চাই’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠক

বিশেষ করে ঈদে বিপুল সংখ্যক হতাহতের ঘটনা আমাদেরকে আতংকিত করে। বিদ্যমান আইনের কঠোর প্রয়োগের অভাবই এর জন্য মূলত দায়ী। এপ্রেক্ষিতে পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন (পবা)-এর উদ্যোগে আজ ১৪ জুন ২০১৭, বুধবার, সকাল ১১টায় পবা মিলনায়তনে আয়োজিত “ঈদে ঘরমুখো মানুষের নিরাপদ যাতায়াতে করণীয়”-শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *