ধরিত্রী দিবসের কবিতা- বিশুদ্ধতম হতে বিষাক্ত প্রকৃতি

জুলকারনাইন

julkarnain

সেই শরৎ রাতের কথা বলছি, তন্দ্রাহারিনী সেই রাত
তুমি ছিলে, আমি ছিলাম, ছিলাম আমরা।
আকাশে তাঁরা ছিল, বাতাসে সুর ছিল, ছিল শুভ্র মেঘের ভেলা
নারঙ্গি দ্বীপে ছিল কেয়া, ছিল দারুচিনি ও কোরালের মেলা।
তুমি আমার পাশেই ছিলে যখন কাশফুল গুলো ডাকতো মেঘকে
অভিমানী চন্দ্র যখন মুখ লুকাতো মেঘের আঁচল তলে
যখন অন্ধকার হতো সারা পৃথিবী অমানিশার গ্রাসে
তখনও তুমি পাশেই ছিলে দুষ্টুমি আর অভিমান নিয়ে।
তুমি আমার পাশেই ছিলে বৈশাখীর রুদ্র ঝড়ে
আষাঢ়ের অঝোর ঝরার ক্ষণে বিশ্বাসী ছাতা হয়ে
গ্রীষ্মের দুপুরে ঝলসিত সূর্যের দাবদাহে ফাঁটা বাউন্ডেলের দুর্গম পথে
তুমি ছিলে সূর্যাস্তের গোধুলিতে রংধনু হয়ে।earth day 2016
কৃষ্ণচুড়া শোভিত ফাগুনে তুমি গান গেয়ে ছিলে বসন্ত বন্দনা করে
হেমন্তে তুমি প্রাচুর্য দিয়েছিলে ক্ষুদ্র হৃদয় জুড়ে
তুমি কেয়া কদম্বে শুভা দিয়েছিলে বর্ষার দিনে
শীতের রাতেও তুমি ছিলে উষ্ণতা হয়ে
তুমি ছিলে শুধু তুমি ছিলে গ্রীষ্ম কিংবা বসন্তের ক্ষণে।
প্রকৃতি তুমি জীবন দিয়েছিল উষর ধরণীতে
বাসযোগ্য করেছিলে ধরা গভীর ভালোবেসে
কিন্তু পেয়েছো তুমি লাঞ্চনা শুধু আমাদেরই ভুলে।
তোমার বুকে ছিদ্র করেছি ওজোন স্তর ভেঙ্গে
বিষ ঢেলেছি তোমার দেহে শিল্পায়নের ছলে
তুমি নির্বাক ছিলে গলে ডুবেছো লবণাক্ত জলে।
আজ জীব বৈচিত্র্য ধ্বংস প্রাপ্ত এলনিনো লানিনোর প্রভাবে
অতিবেগুনির রাজ্য জয়ে শোষিত আমরা সকলে।
এসিড বৃষ্টি আসছে ধেঁয়ে, দাবানলে পুড়ছে সব
অনুর্বর হচ্ছে মাটি, থাকবে না কোন বসবাস।
প্রকৃতি প্রেমে না পড়লে ঘটবে আরও সর্বনাশ
ধরিত্রীকে বাচাঁতে মোরা এসো মিলাই দীপ্ত হাত।

কবি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মৃত্তিকা পানি ও পরিবেশ বিভাগে এমএস বর্ষে অধ্যয়নরত

Check Also

মৌসুমি ফলে বিষ দিয়ে নীরব গণহত্যা বন্ধের দাবি

মৌসুমী ফলের কুড়িঁ থেকে শুরু করে পাকা এবং বাজারজাত করন পর্যন্ত অত্যাধিক ও নির্বিচারে কীটনাশক ব্যবহারের ফলে জনগণ গুরুতর স্বাস্থ সমস্যার উচ্চ ঝুকিতে রয়েছে। ফলে চিকিৎসা ব্যবস্থার উপর চাপ বাড়ছে। এতে জনস্বাস্থ্যের ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। রাসায়নিক বিষ মেশানো ফল খেয়ে মানুষ পেটের পীড়া, শ্বাসকষ্ট, অ্যাজমা, গ্যাস্ট্রিক, লিভার নষ্ট হয়ে যাওয়া, ক্যানসারসহ দীঘর্ মেয়াদি নানা রকম রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *