প্রজন্মের সুরক্ষায় শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণের আহ্বান

আজ আন্তর্জাতিক শব্দসচেতনা দিবস। শব্দদূষণ রোধে ১৯৯৬ সাল থেকে এপ্রিল মাসের যে কোন বুধবার দিবসটি পালিত হয়ে আসছে। বর্তমানে শব্দদূষণ পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের প্রেক্ষাপটে একটি মারাত্মক পরিবেশগত সমস্যা হিসেবে পরিগণিত হয়েছে। বিশেষ করে শব্দদূষণের কারণে আগামী প্রজন্ম মানসিক ও শারীরিকভাবে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। শব্দদূষণের ফলে শ্রবণশক্তি হ্রাস পাওয়া, বধিরতা, হৃদরোগ, মেজাজ খিটখিটে হওয়া, শিক্ষর্থীদের পড়ালেখা বিঘিœত হওয়া, ঘুমের ব্যাঘাতসহ নানা রকম সমস্যা দেখা দেয়। শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। আজ ২৭ এপ্রিল ২০১৬ রোজ বুধবার সকাল ১০.০০ টায় পরিবেশ অধিদপ্তরের উদ্দ্যোগে আন্তর্জাতিক শব্দসচেতনতা দিবস উপলক্ষ্যে “শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত ও অংশীদারিত্বমূলক কর্মসূচি” এর অধীনে মানিক মিয়া এভিনিউ’র ন্যাম ভবন এমপি হোস্টেলের সামনে সমাবেশে বক্তারা এ অভিমত ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠানে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী আব্দুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকব বলেন, প্রাণীর যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম হলো শব্দ। কিন্তু এই শব্দই আজ আমাদের পরিবেশ এবং স্বাস্থগত ক্ষতির কারণ হয়ে দেখা দিয়েছে। সরকার শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে নানা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। আমরা যারা শব্দদূষণের সৃষ্টি করছি তারাও এর ক্ষতির শিকার। কাজেই সরকারের গৃহিত কর্মসূচির পাশপাশি আমাদের সকলকেই সচেতন হতে হবে। সবাই মিলে শব্দদূষণ প্রতিরোধ করতে হবে।DSCN3485

পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. কামাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, শব্দ দূষণের উৎসসমূহ বন্ধ করার পাশাপশি আমাদের সকলকে সচেতন হতে হবে। সকলকে নিজ নিজ জায়গা থেকে কাজ করতে হবে। সরকার শব্দদূষণ রোধে বেশ কিছু কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। আমাদের বিশ্বাস এই কর্মসূচির মাধ্যমে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে একধাপ এগিয়ে যাওয়া যাবে। শব্দদূষণের মতো এই মারাত্মক ঘাতক থেকে আপামর জনসাধারণকে রক্ষা করতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহের শ্রদ্ধেয় শিক্ষকমন্ডলী ও ছাত্রসমাজের ভূমিকা পালন করতে হবে।

পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মোঃ রইছউল আলম মন্ডল বলেন, মাত্রারিক্ত শব্দ তৈরির কারণে আমরা আজ ভয়াভহ শব্দদূষণের মধ্যে বাস করছি। নগরায়ন, শিল্পায়ন, মানুষের দৈনন্দিন কাজকর্ম, যানবাহন, এবং ব্যবহারের ফলে শব্দের মাত্রা অসহনীয় হলে তা মানব স্বাস্থ্য ও পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলে। পরিবেশ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে সচেতনতামূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালকবৃন্দ; উপ-পরিচালক এবং “শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত ও অংশীদারিত্বমূলক কর্মসূচি” এর কর্মসূচি পরিচালক ফরিদ আহমেদ; ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ ট্রাস্ট এর নির্বাহী পরিচালক সাইফু্িদ্দন আহমেদ; ধানমন্ডি গভার্মেন্ট বয়েজ হাইস্কুল, কচিকন্ঠ হাই স্কুল, আইডিয়াল ক্যাডেট স্কুল এবং আলিফ আইডিয়াল স্কুলের শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীবৃন্দ; বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি ও পেশাজীবীবৃন্দ ।

Check Also

এসেছে বাংলার ওয়াইল্ড মেন্টর

এই অ্যাপটির প্রধান উদ্দেশ্য, বিভিন্ন প্রাণির সামগ্রিক বিবৃতি উপস্থাপন। বৈজ্ঞানিক নাম থেকে শুরু করে, কোনো একটি নির্দিষ্ট প্রাণির বিভিন্ন বয়সের ছবি, স্বভাব, আচরণ, আকার-আকৃতি, রঙ, খাদ্য, ইত্যাদি সামগ্রিক ধারণা পাওয়া যাবে এখানে খুব সহজেই। এমনকি পৃথিবীর কোথায় কোথায় এর অস্তিত্ব আছে, সেটিও ম্যাপের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে এখানে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *