ঊপকূলীয় জনগোষ্ঠীর জীবনমান নিয়ে আলোকচিত্র প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত

এনভায়রনমেন্টমুভ ডেস্ক

জলবায়ু পরিবর্তন এবং দুর্যোগের ফলে ক্ষতিগ্রস্থ দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। বিশেষ করে এদেশের ঊপকূলীয় অঞ্চলে বসবাসরত জনগোষ্ঠী প্রতিনিয়ত জলবায়ু পরিবর্তনজনিত সমস্যা মোকাবেলা করছে। ঊপকূলীয় অঞ্চলের বাস্তব চিত্র সর্বসাধারনের মাঝে ফুঁটিয়ে তোলার লক্ষ্যে খ্রীষ্টিয়ান কমিশন ফর ডেভেলপমেন্ট ইন বাংলাদেশ (সিসিডিবি) ধানমন্ডির দৃক গ্যালারীতে আয়োজন করেছিল ‘কোস্টাল বাংলাদেশ’ শীর্ষক ২৬-২৮ এপ্রিল তিন দিনের আলোকচিত্র প্রদর্শনী। ঊপকূল এলাকায় কাজ করেন এরকম তিনজন চিত্রগ্রাহক; দীন মোহাম্মদ শিবলী, রফিকুল ইসিলাম মন্টু এবং হাবিব তরিকুলের নির্বাচিত ৫৭ টি আলোকচিত্র নিয়ে এই প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে। ২৬ এপ্রিল বিকাল ৫ টায় একটি অনাড়ম্বরপূর্ন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে প্রদর্শনী উদ্বোধন করেন প্রতিষ্ঠানের নির্বাহী পরিচালক জয়ন্ত অধিকারী।

উদ্বোধনকালে চিত্র গ্রাহক রফিকুল ইসিলাম মন্টু উপকূলের চিত্র নিয়ে বলেন, উপকূলে আছে অবাধ সম্ভাবনা, এই সম্ভাবনার সাথে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব রয়েছে। খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা উপকূলীয় অঞ্চলের ভিন্ন ভিন্ন সম্ভাবনার কথা বলেন তিনি। সেই সাথে উপকূলের দিকে, উপকূলের মানুষের জীবনযাত্রার দৈনদশার দিকে গণমাধ্যমের পাশাপাশি উন্নয়ন সংস্থাগুলোকে আরও বেশি দৃষ্টি আকর্ষণ করার আহ্বান জানান তিনি। চিত্রগ্রাহক দীন মোহাম্মদ শিবলী বলেন, সুন্দর নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, শহুরে মানুষের মনে সেই অনুভূতিকে নাড়া দেয়ার জন্যই এই প্রদর্শনীর আয়োজন। তানজির হুসাইন, হেড অব ক্লাইমেট চেইঞ্জ ইউনি্ট‌ সিসিডিবি, আশা ব্যক্ত করেন; এই ধরণের প্রদর্শনী নীতিনির্ধারক মহলে সাড়া জাগাতে উদবুধ করতে সহায়তা করবে।

তিন দিনের এই প্রদর্শনীতে স্থান পেয়েছে জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষয়ক্ষতি এবং ঊপকূলীয় জনগোষ্ঠীর জীবনমান। বাংলাদেশের উপকূলে এখনও নতুন নতুন ভূমি জেগে উঠছে, কিন্তু এক বা দুই প্রজন্মের শিকড় মাটির গভীরে প্রবেশের পূর্বেই চরের অস্তিত্ব হুমকির সম্মুখীন হয়ে পড়ছে। বস্তুত, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে প্রতি বছর ঊপকূলীয় অঞ্চলের ক্ষয়ক্ষতি এবং সেই অঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রার মান তুলে ধরাই ছিল এই প্রদর্শনীর মূল লক্ষ্য।

 

Check Also

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও সিটি করপোরেশনের নিরবতাই চিকুনগুনিয়ার ব্যপকতার জন্য দায়ী

১৯৫২ সালে প্রথম তানজানিয়ায় চিকুনগুনিয়া শনাক্ত হয়। বর্তমানে বিশ্বের ৬০টি দেশে রোগটি ছড়িয়ে পড়েছে। বাংলাদেশে ২০০৮ সালে চিকুনগুনিয়া ভাইরাসের অস্তিত্ব ধরা পড়লেও এবছরের মে মাস থেকে তার প্রকোপ ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *