মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তন প্রায় ১১,৫০০ বছর আগে!

সাদিয়া লেনা আলফি

সম্প্রতি তেল আবিব বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায় উঠে এসেছে প্রথম মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তন ঘটে প্রায় ১১,৫০০ বছর আগে। মৃত সাগর বা ডেড সি’র তলদেশের এক নমুনা বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা আবিষ্কার করতে সমর্থ হলেন যে, ডেড সি’র তলদেশের অববাহিকা ক্ষয়ের হার; সে যুগের জলবায়ু এবং পৃথিবীর গঠনব্যাবস্থার সাথে পুরোপুরি অসঙ্গতিপুর্ন। জলবায়ু বিশেষজ্ঞের একটি বড় অংশ সম্মতি পোষন করেছেন বিগত শতকের জলবায়ু-উষ্ণতার কারণ মানবসৃষ্ট।

তেল আবিব বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব জিওসায়েন্সের প্রধান প্রফেসর স্যামুয়েল ম্যাক্রো বলেন, “প্রাকৃতিক পরিবেশের উপর মানুষের প্রভাব বর্তমানে সমগ্র পৃথিবীকে হুমকির মুখে ফেলছে এবং তার ফলে মৌলিক প্রক্রিয়াসমূহ অনুধাবন করা কষ্টকর হয়ে পড়েছে। “গবেষক দলটিকে নেতৃত্ব দেয়া এই বিজ্ঞানী আরো বলেন, ”আমাদের এই আবিষ্কার পৃথিবীর শুরুর দিককার গঠন ও বাস্তুসংস্থানের ওপর মানবসৃষ্ট প্রভাবের কিছু পরিমাণগত মূল্যায়ন দিয়ে থাকবে।“ গবেষণাটির ফলাফল “Global and Planetary Change” এ প্রকাশিত হয়।

হাইফা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর দানি নাদেল এবং প্রফেসর নিকোলাস ওয়াল্ডম্যান এর সহযোগীতায় গবেষণাটি পরিচালনা করেন তেল আবিব বিশ্ববিদ্যালয়ের পোস্ট-ডক্টরাল শিক্ষার্থী ড. ঝিন লু। এটি মূলত ছিলো মৃত সাগর গভীর খনন কার্যক্রমের অংশ – যাতে মৃত সাগর অনুসন্ধানের জন্য ১৫০০ ফুট পর্যন্ত খনন করা হয়। প্রাপ্ত নমুনা দলটিকে গত ২২০,০০০ বছরের পলিমাটির তথ্য দিতে সক্ষম হয়।

এই অববাহিকা ক্ষয় মূলত শুরু হয় নিওলিথিক বিপ্লবের সময়, যখন মানবসমাজ পশু শিকার ও সংগ্রহের সংস্কৃতি থেকে বের হয়ে কৃষিভিত্তিক সমাজ গঠন শুরু করে। এর ফলে পৃথিবীতে জনসংখ্যা লক্ষনীয়ভাবে বৃদ্ধি পায়। প্রফেসর ম্যাক্রো এর মতে, “সাধারণ গাছপালার পরিবর্তে শস্যের আবাদ, পশুপালন এবং চাষবাসের কারণে বন উজাড় হয়। ফলে ভূমিক্ষয় বৃদ্ধি পায় ও পলিমাটি জমা হতে থাকে যার প্রমাণ মৃত সাগর অনুসন্ধানে মিলেছে।“

মৃত সাগর এক প্রাকৃতিক বিজ্ঞানাগার হিসেবে কাজ করছে বিজ্ঞানীদের জন্য। পলিমাটি জমার হার থেকে বিজ্ঞানীরা অনুমান করতে পারছেন জলবায়ু পরিবর্তন, পৃথিবীর গঠন এবং ভূমিরূপ গঠনের ওপর মানুষের প্রভাব সম্পর্কে। প্রফেসর ম্যাক্রো আরো বলেন, “আমরা মৃত সাগরে প্রায় তিনগুণ ক্ষুদ্রাকার বালুর পরিমাণ বৃদ্ধি দেখতে পেয়েছি যা ১১,৭০০ বছর পূর্বে শুরু হওয়া হলোসিন যুগের জলবায়ু এবং পৃথিবীপৃষ্ঠের সাথে একেবারেই অসঙ্গতিপুর্ন।“

বর্তমানে গবেষক দলটি একই স্থান থেকে প্রাপ্ত তথ্য নিয়ে ভুমিকম্প বিষয়ক গবেষনা করছেন। তারা আশা করছেন করছেন এটি তাদের প্রায় ২২০,০০০ বছর আগে পৃথিবীতে ঘটে যাওয়া তীব্রতম ভুমিকম্প সম্পর্কে ধারনা দেবে।

সূত্রঃ সাইন্স ডেইলি

Check Also

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও সিটি করপোরেশনের নিরবতাই চিকুনগুনিয়ার ব্যপকতার জন্য দায়ী

১৯৫২ সালে প্রথম তানজানিয়ায় চিকুনগুনিয়া শনাক্ত হয়। বর্তমানে বিশ্বের ৬০টি দেশে রোগটি ছড়িয়ে পড়েছে। বাংলাদেশে ২০০৮ সালে চিকুনগুনিয়া ভাইরাসের অস্তিত্ব ধরা পড়লেও এবছরের মে মাস থেকে তার প্রকোপ ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *