ব্যাকটেরিয়া করবে সালোকসংশ্লেষণ!

সাদিয়া লেনা আলফি

গাছপালা সূর্যের আলো আর ক্লোরোফিল ব্যাবহার করে শক্তি উৎপন্ন করে আর তা সমস্ত প্রানীকূল জীবনধারনের জন্য ব্যাবহার করে আসছে এটি প্রতিষ্ঠিত। কিন্তু যে হারে পৃথিবীর জনসংখ্যা বাড়ছে আর বাসস্থান সংকুলানের জন্য গাছপালা কেটে ফেলা হচ্ছে তাতে করে এ শক্তির জোগান পর্যাপ্ত নয়। তাই বিজ্ঞানীরা বেশ কিছু কয়েকবছর ধরেই সালোকসংশ্লেষণের পরিপূরক নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস খুঁজছিলেন। অবশেষে ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়ার গবেষক কেলসি কে. সাকিমোতো প্রাকৃতিক সালোকসংশ্লেষণের বিকল্প উদ্ভাবন করেছেন। এ লক্ষ্যে সাইবর্গ ব্যাক্টেরিয়াকে এমনভাবে প্রস্তুত করা হয়েছে যা সূর্যালোককে ব্যবহারযোগ্য পদার্থে পরিনতকারী “সোলার প্যানেল” দ্বারা আবৃত হয়ে ক্লোরোফিল অপেক্ষা অধিক কার্যক্ষমতা দেখাতে পারে। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সাকিমোতো বলেন, “সূর্যের আলো আস্বাদনের জন্য কমদক্ষ ক্লোরোফিলের উপর নির্ভর করার চেয়ে আমি ব্যাক্টেরিয়াগুলোকে বড় হতে এবং নিজেদের দেহকে ক্ষুদ্র অর্ধপরিবাহী ন্যানোক্রিস্টাল দিয়ে আবৃত হতে শিখিয়েছি, এই ন্যানোক্রিস্টালগুলো ক্লোরোফিল অপেক্ষা অনেক বেশি দক্ষ এবং উতপাদনকৃত সোলার প্যানেল অপেক্ষা অনেক কম খরচে তৈরি করা যায়”।

সাইবর্গ ব্যাক্টেরিয়া জন্মানোর জন্য সাকিমোতো তাদের অ্যামিনো এসিড সিস্টিন ও ক্যাডমিয়াম প্রদান করেন। ব্যাক্টেরিয়াগুলো তখন ক্যাডমিয়াম সালফাইড নামক ন্যানোকনা সংশ্লেষ করতে পারে যা ব্যাক্টেরিয়াগুলোর গায়ে থেকে দক্ষভাবে আলোক শোষণ করতে পারে। নতুন এ হাইব্রিড M.thermotica-CdS নামক জীবটি আলোক শক্তি থেকে প্রাকৃতিক সালোকসংশ্লেষণের থেকেও দ্রুতগতিতে প্রয়োজনীয় এসিটিক এসিড,পানি ও কার্বন ডাই অক্সাইড প্রস্তুত করতে পারে।

কৃত্রিম সালোকসংশ্লেষণ কোন নতুন ধারনা নয়,বরং এটি শুধুমাত্র সূর্যালোক ও রাসায়নিক পদার্থ ব্যাবহার করে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যাবহারের এক সস্তা ও দূষনমুক্ত উপায়। সাকিমোতোর ব্যাক্টেরিয়া আত্মপ্রজননশীল, পুনরুৎপাদনযোগ্য এবং শতকরা ৮০ ভাগের বেশী কর্মদক্ষ এবং শুন্য পরিমান বর্জ্য পদার্থ উতপন্নকারী। এই ক্ষুদ্র “সোলার প্যানেল” গুলো দ্বারা আবৃত করা হলে ব্যাক্টেরিয়াগুলো সূর্যালোক ব্যবহার করে খাদ্য,জ্বালানী এবং প্লাস্টিক পর্যন্ত সংশ্লেষ করতে পারবে। যদিও আরো গবেষণা প্রয়োজন, সাকিমোতো মনে করছেন তার এই টেকসই সাইবর্গ ব্যাক্টেরিয়া পৃথিবীর জন্য জ্বালানী উৎপাদনের সস্তা ও দূষনমুক্ত বিকল্প হতে পারে।

এ বিষয়ে ভিডিওটি দেখতে ক্লিক করুন এখানে 

সুত্রঃ ফিউচারিজম.কম

Check Also

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও সিটি করপোরেশনের নিরবতাই চিকুনগুনিয়ার ব্যপকতার জন্য দায়ী

১৯৫২ সালে প্রথম তানজানিয়ায় চিকুনগুনিয়া শনাক্ত হয়। বর্তমানে বিশ্বের ৬০টি দেশে রোগটি ছড়িয়ে পড়েছে। বাংলাদেশে ২০০৮ সালে চিকুনগুনিয়া ভাইরাসের অস্তিত্ব ধরা পড়লেও এবছরের মে মাস থেকে তার প্রকোপ ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *