গবেষণায় পাওয়া গেলো প্রতিকূলতা সহিষ্ণু প্রবাল ‘কোরালিথ’

 

দিব্য কান্তি দত্ত

সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে, বিজ্ঞানীরা প্রতিকূলতা সহিষ্ণু এক ধরণের নতুন প্রজাতির প্রবাল খুঁজে পেয়েছেন যা প্রতিকূল এলাকায় নতুন প্রবাল প্রাচীর গঠনের ভিত্তি গড়ে দিতে পারে। এই নতুন প্রজাতির চলনে সক্ষম প্রবাল নিজেদের স্থায়ী আবাস গড়ে তুলতে সক্ষম এবং তাদের এই আবাসস্থলকে অন্য প্রজাতির প্রবাল ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করে প্রবালপ্রাচীর গড়ে তুলতে পারে। সহিষ্ণু প্রজাতির এই প্রবালগুলো ‘কোরালিথ’ নামে পরিচিত। এরা সাধারণত নুড়িপাথর কিংবা মৃত প্রবালের ভঙ্গুর অংশের ওপর জন্মে থাকে এবং সমুদ্রের তীব্র স্রোতের সাথে সংগ্রাম করেও টিকে থাকতে পারে। গবেষণায় প্রাপ্ত ফলাফল বলছে, বালি এবং পাথরপ্রধান দূর্গম অঞ্চলগুলোতে খুঁজে পাওয়া প্রবালের আবাসস্থলগুলো কোরালিথ দ্বারা তৈরি। প্রতিকূল পরিবেশে কোরালিথের টিকে থাকার এই ক্ষমতা হুমকির সম্মুখীন প্রবালের বাসস্থান সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

এডিনবার্গ, গ্লাসগো এবং হেরিয়ট-ওয়াট বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা মালদ্বীপের ক্রান্তীয় অঞ্চলে কোরালিথের ওপর মাঠপর্যায়ের একটি গবেষণা করতে গিয়ে এসব গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আবিষ্কার করেন। এ সম্পর্কিত গবেষণাটি ‘সায়েন্টিফিক রিপোর্টস’ জার্নালে প্রকাশিত হয়। তারা সেখানে কোরালিথের বিভিন্ন ধরনের গঠন আবিষ্কার করেন যেগুলো মটরশুটি থেকে বড় পাথরের আকৃতি পর্যন্ত বিস্তৃত এবং সেই এলাকাগুলোতে সাধারণ প্রজাতির প্রবালের টিকে থাকা প্রায় অসম্ভব। পূর্ববর্তীভাবে বিভিন্ন ফসিল বিশ্লেষণ করে পাওয়া তথ্যানুযায়ী, কোরালিথ সেই বরফ যুগ থেকে বিভিন্ন প্রবাল প্রাচীর গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে। এ বিষয়ে এডিনবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ড. সেবাস্তিয়েন হেনিগ বলেন, “আমরা এতদিন ধরে অনুমান করে এসেছি, প্রবালপ্রাচীর গঠনের জন্য প্রবালের একটি সুস্থিত ভিত্তি প্রয়োজন। কিন্তু এই গবেষণা আমাদের সেই ভুল ভাঙিয়ে দিয়েছে। এখন আমরা জানি, প্রবাল কোন কিছুর সাহায্য ছাড়াই নিজেদের প্রয়োজন অনু্যায়ী পরিবেশ তৈরি করে নিতে পারে এবং যে স্থানগুলোকে আমরা প্রবালপ্রাচীর তৈরির জন্য অনুপযুক্ত ভেবেছিলাম, তারা অন্য প্রজাতির জন্যও সেসব স্থানগুলোতে বাসস্থানের ভিত্তি তৈরি করে দিতে পারে”।

এই আবিষ্কারের ফলে স্বাভাবিকভাবেই অনেক নতুন প্রশ্নের উদ্ভব হয়েছে। বিশেষ করে প্রবালের বাস্তুসংস্থানের ক্ষেত্রে মেনে নেয়া অনেক তত্ত্বই বাতিল হয়ে গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, কোরালিথ বিভিন্ন স্থানে প্রবালপ্রাচীর পুনঃস্থাপনের দ্বারা ভবিষ্যৎ সময়ে অগ্রবর্তী বিভিন্ন দূর্যোগ মোকাবেলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। এ বিষয়ে গ্লাসগো বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ড. নিক কামেনস বলেন, “সব প্রবালের প্রজাতিই কোরালিথ তৈরি করতে পারেনা। কোরালিথ তৈরিতে সক্ষম প্রজাতিগুলো পরবর্তনশীল পরিবেশে প্রতিরোধ ক্ষমতাসম্পন্ন- যা তাদের পরিবর্তনশীল জলবায়ুতে বিশেষ সুবিধা প্রদান করে। এর ফলে আমাদের বিবৃত তত্ত্বটি ভবিষ্যতে আরো শক্তিশালী অবস্থান লাভ করবে”।

Check Also

এসেছে বাংলার ওয়াইল্ড মেন্টর

এই অ্যাপটির প্রধান উদ্দেশ্য, বিভিন্ন প্রাণির সামগ্রিক বিবৃতি উপস্থাপন। বৈজ্ঞানিক নাম থেকে শুরু করে, কোনো একটি নির্দিষ্ট প্রাণির বিভিন্ন বয়সের ছবি, স্বভাব, আচরণ, আকার-আকৃতি, রঙ, খাদ্য, ইত্যাদি সামগ্রিক ধারণা পাওয়া যাবে এখানে খুব সহজেই। এমনকি পৃথিবীর কোথায় কোথায় এর অস্তিত্ব আছে, সেটিও ম্যাপের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে এখানে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *